জেলা প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌর শহরে একের পর এক এসির মূল্যবান তামার তার চুরির ঘটনায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র দাউদনগর বাজারে ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, চোরচক্র এখন পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দোকান, ব্যাংক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এসি লক্ষ্য করে তামার তার খুলে নিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে দাউদনগর বাজারের কে আলী প্লাজার ব্যবসায়ী সুফি মিয়ার কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। দোকানে থাকা দুটি এসির মূল্যবান তামার তার কেটে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শায়েস্তাগঞ্জ থানার এসআই কাউছার আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর মাত্র একদিন আগে বৃহস্পতিবার একই মার্কেটে শায়েস্তাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈনুল হাসান রতনের দোকানের এসির তামার তার চুরি হয়। এরও কয়েকদিন আগে দাউদনগর বাজারে পূবালী ব্যাংকের এসির তামার তার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। কিন্তু এসব ঘটনার পরও চোরচক্রকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ীদের।
শুধু দাউদনগর বাজারই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়ও একই কৌশলে এসির তামার তার চুরি, দোকান ও বাসাবাড়িতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরির খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকাসক্তদের একটি অংশ নেশার অর্থ জোগাড় করতে সংঘবদ্ধভাবে এসব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির অভিযোগ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। মাদকের সহজলভ্যতার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির যুবক নেশায় আসক্ত হয়ে চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এর ফলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক হাজার টাকার তামার তার চুরি হলেও নতুন করে এসি সচল করতে তাদের কয়েকগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত খরচ করে সিসিটিভি ক্যামেরা, গ্রিল ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু চুরির ঘটনার তদন্ত করলেই হবে না, এর মূল কারণ হিসেবে মাদক ব্যবসা ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার এবং সংঘবদ্ধ চোরচক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, চুরির ঘটনা এখন নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আজ একটি দোকান, কাল আরেকটি প্রতিষ্ঠানে, এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে। আমরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা করতে চাই। প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেক।
এদিকে, ধারাবাহিক এসব চুরির ঘটনায় শায়েস্তাগঞ্জের ব্যবসায়ী সমাজের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের আশা, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর অভিযান পরিচালনা করে চোরচক্রকে আইনের আওতায় আনবে এবং মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে করে ব্যবসায়ীদের আস্থা ফিরবে এবং পৌর শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
প্রতিনিধি/ এজে