জেলা প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার পাঁচ বছরের শিশু সাহেরা খাতুনের শৈশব এখন কাটছে অসহ্য যন্ত্রণায়। টিউমারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসাধীন এই শিশুর উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচার ও বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন। এর জন্য প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি আব্দুস সামাদ ও জান্নাতি বেগম দম্পতির ঘরে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সাহেরার জন্ম হয়। জন্মের এক মাস পর তার একটি চোখে ছোট একটি ফোঁড়া দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে সেটি বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে পুরো চোখ ঢেকে যায় এবং চোখ থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হতে শুরু করে।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে স্থানীয় হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হন। অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে গাইবান্ধা, রংপুর ও ঢাকার বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করান। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা জানান, সাহেরা টিউমারে আক্রান্ত। তাদের মতে, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সাহেরার মা জান্নাতি বেগম বলেন, ‘অন্য শিশুদের মতো আমার সন্তানও খেলতে চায়, স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু সারাক্ষণ ব্যথায় কাতর থাকে। সন্তানের কষ্ট দেখে কিছুই করতে পারছি না। সবাই যদি একটু সহযোগিতা করেন, তাহলে হয়তো আমার সন্তান নতুন জীবন পাবে।’
বাবা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘দিনমজুরের কাজ করে কোনো রকমে সংসার চালাই। মেয়ের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে অনেক টাকা ধার করেছি। এখন আর চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য নেই। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা ছাড়া আমার সন্তানের জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়।’
গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসার জন্য সরকারের বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। প্রয়োজনীয় আবেদন করা হলে সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
প্রতিনিধি/এসএস