জেলা প্রতিনিধি
৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ এএম
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে (২১) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মেডিকেল প্রতিবেদনে ওই তরুণী বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, নোয়াখালীতে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে দায়ের করা মামলায় কবিরহাট উপজেলার চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মো. ইউছুফকে (২৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা বেগম (৪৭) একজন বিধবা ও দরিদ্র নারী। তার এক মেয়ে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। জীবিকা নির্বাহের জন্য ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করতে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে একটি সুপারি বাগানের কাছে ইউছুফ ভুক্তভোগী তরুণীর মুখে গামছা চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। বিষয়টি কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিয়ের প্রলোভন ও টাকা দেওয়ার কথা বলে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
মামলার বাদী জানান, মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন দেখে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসি এবং পরে মাইজদীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। চিকিৎসকরা জানান, ওই তরুণী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তাকে আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। পরে ৩০ জুলাই নোয়াখালীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলাটি দায়ের করা হয়।
আদালত ভুক্তভোগীর চিকিৎসা, প্রসূতি অবস্থার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিতে কবিরহাট থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২, নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী এ নির্দেশ দেন।
নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি বলেন, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, এ সুযোগে কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ভুক্তভোগীর মা আদালতে আবেদন করলে আদালত তা আমলে নিয়ে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।