Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নেত্রকোনায় শিশুর ধর্ষণ মামলায় নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ

জেলা প্রতিনিধি

৩১ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৬ এএম

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী শিশুর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এর আগে মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে নেত্রকোনা কোর্ট পরিদর্শক মোহাম্মদ রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ২৮ জুলাই সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে (সেফ হোম) থাকা নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মদন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্তারুজ্জামানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গত ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের অনুমতি দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবজাতককে ঢাকায় না নিয়ে সিলেটের সেফ হোম থেকেই নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে ঢাকার সিআইডি ল্যাবের পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে একটি দল নমুনা সংগ্রহ করে।

তদন্ত কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে অভিযুক্ত আসামির ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে গত ২ জুলাই সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয় ওই শিশু। পরে ৯ জুলাই নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

মামলার অভিযুক্ত আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগর বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। আদালত আগামী ২৪ আগস্ট মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা মদন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেছেন, যার ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।

মামলার পর গত ৭ মে আদালত অভিযুক্তকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠান। রিমান্ড শেষে ১০ মে আদালতে হাজির করা হলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিএনএ পরীক্ষার আবেদন করেন। পরে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।

ভুক্তভোগী শিশুর নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তার মায়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে গত ১২ মে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সিলেটের একটি নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। এরপর থেকে শিশুটি সেখানেই রয়েছে।