জেলা প্রতিনিধি
২৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। পুলিশের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা বাগ্বিতণ্ডার পর বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৫টার দিকে তারা যাত্রা শুরু করেন। হবিগঞ্জে পৌঁছে সংবাদ সম্মেলন করার কথা রয়েছে এনসিপি নেতাদের।
এর আগে বিকেল ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।
গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের বাধার সময় দলটির ফেসবুক পেইজ থেকে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও-ও পোস্ট করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, শ্রীঙ্গলের রাস্তা আটকে মানব ঢাল তৈরি করে রেখেছে পুলিশের সদস্যরা। সারিবদ্ধ দাঁড় করে রাখা হয় এনসিপির গাড়িবহর। এতে ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী বেশ কিছু গণপরিবহনও আটকে যায়।
ভিডিওতে আটকে দেওয়া বহরের গাড়ি থেকে নেমে পুলিশ সদস্যদের কাছে এগিয়ে যেতে দেখা যায় এনসিপি দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে। এ সময় তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা মামলা করতে যাচ্ছি। আপনারা পথ আটকাচ্ছেন কেন?’ গতকালকের ঘটনায় আপনারা কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি বলেও ক্ষোভপ্রকাশ করেন হাসনাত।
অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের বলতে শোনা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তারা এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছেন। এসময় এনসিপির আরেক নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে দেখা যায়।
হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’য় হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনে ১৪৪ ধারা জারির মধ্যেই সেখানে যাচ্ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনা ঘটে। ছাত্রদল, যুবদলের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হামলায় দলটির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।
তারই প্রতিবাদে বুধবার (২৯ জুলাই) হবিগঞ্জসহ সারাদেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। পাল্টা কর্মসূচি দেয় ছাত্রদল-যুবদলও। এমন অবস্থায় হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
এমআর