জেলা প্রতিনিধি
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৩ পিএম
নেত্রকোনার মদন উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৫–২৬ অর্থবছরে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ভুয়া দলিলের ভিত্তিতে জমির নামজারি করার অভিযোগ রয়েছে।
সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাদির হোসেন শামীম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার তার হাতে সম্মাননা তুলে দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবছরে কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় এ সম্মাননা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার পদারকোনা মৌজার সাতজন জমির মালিকের ভুয়া দলিল ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই উৎকোচের বিনিময়ে একটি নামজারির প্রস্তাব দেন মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান। পরে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল নামজারিটি (নম্বর: ২৫-৬৪৩) অনুমোদন করা হয়। ওই নামজারির ভিত্তিতে জমি বিক্রির পর ক্রেতাদের নামে দলিল সম্পাদনের জন্য সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক রহিছ মিয়ার যোগসাজশে আরেকটি ভুয়া দলিল তৈরি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ২৫ জুন দলিলটি নিবন্ধনের জন্য সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলে অসংগতি ধরা পড়ে। পরে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হাসান কথিত ভুয়া দলিলসহ সংশ্লিষ্ট নথি জব্দ করেন। এ ঘটনায় দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয় এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে অফিসের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ভূমি অফিসের নিয়ম অনুযায়ী, নামজারির প্রস্তাব পাঠানোর আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার। অভিযোগকারীদের দাবি, মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান যথাযথ যাচাই ছাড়াই নামজারির প্রস্তাব পাঠান এবং পরে সেটি অনুমোদিত হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি মাঘান ইউনিয়ন থেকে বদলি হয়ে বর্তমানে ফতেপুর ইউনিয়নে কর্মরত আছি। সঠিক কাগজপত্রের ভিত্তিতেই তখন নামজারির প্রস্তাব করা হয়েছিল।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার বলেন, সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে লিখিতভাবে কিছু জানানো হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাকে কীভাবে উপজেলার শ্রেষ্ঠ উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কথা না বলার জন্য ইউএনও তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীমের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
প্রতিনিধি/এসএস