জেলা প্রতিনিধি
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা ঠেকাতে সাধারণ মানুষ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিজিবির উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের (সরাইল) রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন বিজিবির আয়োজনে তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের জব্দ করা মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি জানান, সরাইল রিজিয়নের আওতায় ময়মনসিংহ থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার সীমান্তে গত দুই মাসে অন্তত ২৫টি পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। সর্বশেষ কুমিল্লার সালদা নদী সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা চারজনকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গত তিন বছরে কুমিল্লা ১০ ও সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন প্রায় ২০ হাজার ২০০টি অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ৫২ কোটি টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করেছে। এ সময় মাদকসহ ৫২৬ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ ছাড়া আড়াই শতাধিক আসামি পলাতক রয়েছেন।
বিজিবি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়ন এবং ২০২২ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়ন ৫১ কোটি ৮৩ লাখ ৮৪ হাজার ১২৫ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য জব্দ করে।
জব্দ করা মাদকের মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ২৩৫ বোতল ফেনসিডিল, ৩৪ হাজার ১৭২ বোতল স্কাফ সিরাপ, ১৮ হাজার ৪৯ বোতল বিয়ার, ৮৪ হাজার ৯৫৮ বোতল হুইস্কি, ২৩ হাজার ৯৮১ কেজি গাঁজা, ৩ লাখ ১০ হাজার ৫৯৮টি ইয়াবা, ২৪ দশমিক ৫ লিটার খোলা মদ, ১৩ হাজার ৩৩৮টি আইপি ইনজেকশন, ১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭২টি সেনেগরা ট্যাবলেট, ২৮ হাজার ৮২০টি টার্গেট ট্যাবলেট, ৬ লাখ ৭০ হাজার ৪০টি নিমোসলাইড ট্যাবলেট, ৮ লাখ ৬২ হাজার ৩৫০টি সিপ্রোহেপটাডিন ট্যাবলেট, ৪ লাখ ৪২ হাজার ২১টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ২৩৮ বোতল হারবেচ রেড, ১৯ হাজার ২১০টি ডেক্সোন ট্যাবলেট, ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০টি সিনিক-জেড, ২ হাজার ২৮০টি ল্যাব জিনসেনসহ বিপুল পরিমাণ সিগারেট, জর্দা ও বিড়ি।
মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্ঠানে কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, কুমিল্লা ১০ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৯৬ দশমিক ১০ কিলোমিটার এবং সুলতানপুর ৬০ ব্যাটালিয়নের অধীনে ৭৯ দশমিক ১০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা থেকে গত তিন বছরে এসব মাদক জব্দ করা হয়েছে। একক অভিযান ও বিভিন্ন টাস্কফোর্সের অভিযানে জব্দ করা মাদক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হচ্ছে।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক উদ্ধারে বিজিবি সফলতা দেখাচ্ছে। সব বাহিনী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে মাদকের চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হবে বলে আশা করছি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, মাদক ধ্বংসের এই অনুষ্ঠান প্রতীকী। পুরো রিজিয়নে উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ আরও বেশি। আমরা সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় মাদকের সরবরাহ চেইন ধ্বংস করতে চাই। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে আসা মাদকের আগ্রাসনে আমাদের যুবসমাজ ধ্বংস হোক, সেটা আমরা চাই না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কুমিল্লা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল রকিবুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সুলতানপুর ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম, কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ, র্যাব-১১-এর অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ‘ক’ সার্কেলের পরিদর্শক নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিনিধি/এসএস