Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কুয়াকাটায় সাংবাদিককে হাতুড়িপেটার মামলায় দুই আসামি গ্রেফতার

উপজেলা প্রতিনিধি

২৮ জুলাই ২০২৬, ০৩:২২ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর কুয়াকাটা প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুর ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ জুলাই রাত ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকতসংলগ্ন এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করলে তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটার একটি হোটেলে এক তরুণীকে জোর করে কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদারের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেছিলেন কে এম বাচ্চু। ওই ঘটনার জের এবং পরে অভিযুক্তদের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের কারণেই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য, সরকারি জমির গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নারী-সংক্রান্ত ঘটনার প্রতিবাদ জানানোয় অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল। এ কারণে তাকে বিভিন্ন সময় হুমকিও দেওয়া হয়।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শহীদ শিকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন। হামলার সময় কে এম বাচ্চু একাই ছিলেন বলে পরিবারের দাবি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি কে এম বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ, পর্যটন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে কাজ করছেন। তিনি কুয়াকাটা ট্যুর গাইড অ্যাসোসিয়েশন, উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন এবং বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানানো হয়েছে। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় স্থানীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস