Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সেই বিলাসপুরে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ, উড়ে গেল সেপটিক ট্যাংক

জেলা প্রতিনিধি

২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর ইউনিয়নে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চেরাগ আলী ব্যাপারীকান্দি এলাকার একটি বাড়িতে এই বিস্ফোরণে সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বিলাসপুর ইউনিয়নের চেরাগ আলী ব্যাপারীকান্দি এলাকায় প্রবাসী আলী উজ্জামাল হাওলাদারের বাড়ির পেছনে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ওই সময় বাড়িতে কেউ ছিলেন না। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও প্রথমে বিস্ফোরণের সঠিক স্থান শনাক্ত করতে পারেনি। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির পেছনের টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ওপর বিস্ফোরণের স্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের চিহ্ন পাওয়া যায় এবং বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ বলেন, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলের অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে একসঙ্গে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ককটেলগুলো আগে থেকেই সেখানে মজুত করা হয়েছিল। কারা এগুলো সেখানে রেখেছে এবং কোথা থেকে এসব ককটেল এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে, বিলাসপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ককটেল তৈরি ও বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি ককটেল তৈরির সময় বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর পুলিশ ও যৌথ বাহিনী একাধিক অভিযান চালিয়ে ককটেল তৈরির কথিত কারখানার সন্ধান পায়। এসব অভিযানে ককটেল ও বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জামও জব্দ করা হয়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার দাবি, গত দুই মাসে বিলাসপুর ও আশপাশের এলাকায় অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছেন বলেও জানান তারা। সর্বশেষ সোমবার সন্ধ্যার বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে।

স্থানীয়রা বলছেন, পদ্মা নদীতীরবর্তী বিলাসপুর ইউনিয়নে দীর্ঘ প্রায় চার দশক ধরে বিভিন্ন পক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এসব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের সময় ককটেল ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এর পাশাপাশি একটি চক্র এলাকায় ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। বারবার ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। বিস্ফোরক তৈরি, মজুত ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

প্রতিনিধি/টিবি