Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি আরও ৩

জেলা প্রতিনিধি

২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় সাপের কামড়ে নুরুদ্দিন (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে দুই নারী ও এক পুরুষসহ আরও তিনজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী।

এর আগে, রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের আমখার গ্রামে সাপের কামড়ে আহত হয় নুরুদ্দিন। সে একই গ্রামের সোহেল মিয়ার ছেলে।

নুরুদ্দিনের বাবা সোহেল মিয়া জানান, বাড়ির পাশের জমিতে মাছ ধরতে গেলে একটি সাপ তার ছেলেকে কামড় দেয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আশুগঞ্জ উপজেলার আড়াইসিধা গ্রামের শান্তা (২৩), নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের সানোয়ারা বেগম (৪২) এবং সদর উপজেলার তালশহর পূর্ব ইউনিয়নের পুথাই গ্রামের শহিদুল ইসলাম (৩৫)।

শান্তার মা নয়নতারা জানান, রোববার ভোর ৪টার দিকে টিনশেড ঘরের মেঝেতে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় শান্তাকে সাপে কামড় দেয়। ভোর ৫টার দিকে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুটা সুস্থ বোধ করায় তিনি বাড়ি ফিরে গেলেও দুপুরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

56487fb5-47dd-4f05-95af-25a96304cc0e

সানোয়ারা বেগমের বোন রুজিনা জানান, রোববার বিকেল ৪টার দিকে বাড়ির জমি থেকে লাকড়ি আনতে গেলে অসাবধানতাবশত সাপের ওপর পা পড়ে যায়। এ সময় সাপটি তাকে কামড় দেয়। প্রথমে স্থানীয় এক ওঝার কাছে নেওয়া হলেও পরে রাত ৮টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

অন্যদিকে, শহিদুল ইসলাম নিজ ঘরে শুয়ে থাকা অবস্থায় সাপের কামড়ে আহত হন। পরে রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরও পড়ুন

রামুতে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে দুই বোনসহ নিহত ৩

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত তিনজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে এবং রোগীদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে সাপের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. নোমান মিয়া বলেন, সাপে কামড় দিলে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা সরকারি হাসপাতালে নিতে হবে। কোনোভাবেই ওঝা বা কবিরাজের কাছে গিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে রোগীর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

প্রতিনিধি/এসএস