জেলা প্রতিনিধি
২৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৪ পিএম
পাবনার সাঁথিয়ায় একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামাজে ইমামতি করাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) জুমার নামাজের আগে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবারও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন ওই মসজিদে জুমার নামাজে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। তবে স্থানীয়ভাবে আপত্তির কারণে তা হয়নি। শুক্রবার তিনি আবারও সেখানে গেলে খুতবা শুরুর সময় উপস্থিত বিএনপি সমর্থকদের একটি অংশ আপত্তি জানায়। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। আগে থেকেই সেখানে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।

সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি মো. করিমের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মোমেন ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, খুতবার আগে সংসদ সদস্য মাইক্রোফোন নিয়ে বক্তব্য দেন এবং পরে ইমামতি করার ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি জানান। এ সময় জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, তিনি ক্ষমতা প্রদর্শনের উদ্দেশে সেখানে যাননি। স্থানীয় মুসল্লিদের অনুরোধে তিনি মসজিদে গিয়েছিলেন। তার দাবি, খুতবার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তার দলের কয়েকজন কর্মীকে মারধর করা হয় এবং নামাজ শেষে এক সমর্থকের দোকানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এমপি সাহেবের ইমামতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে—এমন তথ্য আগে থেকেই ছিল। তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। নামাজের আগে কিছু কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধর বা গুরুতর আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
প্রতিনিধি/এসএস