Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

মেয়ের জন্য গড়েছিলেন বিদ্যালয়, এখন সেখানে পড়ে ২০০ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী

জেলা প্রতিনিধি

২৪ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী মেয়ে। তাকে স্কুলে ভর্তি করাতে শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘুরেছেন বাবা সেলিম মিয়া। কিন্তু কোথাও ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত মেয়ের শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করতে নিজ গ্রামেই একটি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এখন সেই বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তবে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় বিনা বেতনে পাঠদান করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। প্রতিষ্ঠানটি টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা চান সংশ্লিষ্টরা।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মেঠোপথ ধরে দল বেধে বিদ্যালয়ে আসছে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা। কেউ হেঁটে, কেউ আবার স্বজনের সহায়তায় বিদ্যালয়ে পৌঁছে শ্রেণিকক্ষে পাঠে অংশ নিচ্ছে। প্রতিদিনই এমন দৃশ্য দেখা যায় বিদ্যালয়টিতে।

8fce16df-34b1-484f-a1a5-e05e6607db11

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ভ্যানচালক সেলিম মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। দুই বছর পর নিজ অর্থায়নে ২০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে টিনশেড ভবন নির্মাণ করেন। শুরুতে শিক্ষার্থী কম থাকলেও বর্তমানে এখানে দুই শতাধিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী স্বেচ্ছাশ্রমে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

9d281ef5-5827-4edd-a4f6-a7c0ac7e0b21

শুধু পাঠদানই নয়, শিক্ষার্থীদের নকশিকাঁথা তৈরি, মোমবাতি ও এলইডি বাল্ব তৈরি এবং সেলাইয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এতে তারা ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

dc1b7bc0-77b8-4f4a-a8c4-b7845a94cec1

সেলিম মিয়া জানান, তার বড় মেয়ে মরিয়ম আক্তারকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর অন্য প্রতিবন্ধী শিশুদেরও শিক্ষার সুযোগ করে দিতে নিজ উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্তির জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অনলাইনে আবেদন করা হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি।

123f65e5-379e-40c6-8169-0cf749125aa4

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তাদের সন্তানদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে তারা সবার সঙ্গে মিশতে চাইত না, এখন খেলাধুলা করে, কথা বলে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছে।

ef3dcbf1-c966-4f6b-9ecd-3ee2894cc3f1

সহকারী শিক্ষক তাপসি আক্তার বলেন, ছয় বছর ধরে কোনো বেতন ছাড়াই এখানে কাজ করছি। সরকার যদি প্রতিষ্ঠানটির দিকে নজর দিত, তাহলে আমাদের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হতো।

966b7339-c214-4871-899c-256fbfb43655

প্রধান শিক্ষক খাদিজা আক্তার বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পাঠদান করা হয়। এমনকি যাতায়াত খরচও প্রতিষ্ঠান থেকে বহন করা হয়। কিন্তু কোনো সরকারি সহায়তা না থাকায় প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করা দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

b7f128ab-0967-4d28-9e42-4e771cb2c9de

প্রতিষ্ঠাতা সেলিম মিয়া বলেন, ইচ্ছাশক্তি আর মানুষের জন্য কিছু করার স্বপ্ন থেকেই বিদ্যালয়টি গড়ে তুলেছি। কিন্তু শিক্ষক-কর্মচারীদের কেউই বেতন পান না। তাদেরও পরিবার আছে। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

cb188f60-09a7-4a0b-afe1-8e76e2e87c97

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিদ্যালয়ের সার্বিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করবে এবং এমপিওভুক্তির বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রতিনিধি/এসএস