জেলা প্রতিনিধি
২১ জুলাই ২০২৬, ০৯:০৭ এএম
টানা ভারী বৃষ্টির পানির তোড়ে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সাজিয়ালী গ্রামের একমাত্র যাতায়াতকারী ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দোগাছিয়া সালামিতের বিল ও সাজিয়ালী বাঁওড়ের পানি নিষ্কাশনের জন্য বহু বছর আগে একটি খাল খনন করা হয়। পরে খালের ওপর এই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজটি প্রায় ২৫-৩০ বছরের পুরোনো। দীর্ঘ দিন ধরে এটিই ছিল ওই এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান ভরসা।
এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারা জানান, দ্রুত এখানে একটি নতুন ব্রিজ নির্মাণ বা জরুরি সংস্কার কাজ শুরু না করা হলে চলমান বর্ষায় দুর্ভোগ আরও প্রকট আকার ধারণ করবে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে খালটি পুনঃখনন করা হয়। তবে খননের পর থেকেই ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহের টানা ভারী বৃষ্টি ও পানির প্রবল স্রোতে অবশেষে ব্রিজের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন, সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ি, চুড়ামনকাটি বাজার, বারীনগর বাজার এবং যশোর শহরে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষকে এখন বিকল্প ও দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত সময় লাগার পাশাপাশি যাতায়াত খরচও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় সবজি চাষিরা। সাজিয়ালী এলাকাটি ইউনিয়নের প্রধান সবজি উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় সবজি চাষি মিন্টু গাজী বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় মাঠ থেকে হাটে সবজি তুলতে চরম কষ্ট হচ্ছে। অতিরিক্ত পরিবহন খরচের কারণে আমাদের লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
একই সঙ্গে বিপদে পড়েছেন অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকেরা। অনেক চালক তাদের যান নিজ বাড়িতে পর্যন্ত নিতে পারছেন না।
পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত গ্রামবাসীর নিজস্ব উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সীমিত পরিসরে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিষয়টি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) আব্দুর রউফ বলেন, ব্রিজটি ধসে পড়ায় পুলিশি সেবা দিতে এবং সাধারণ মানুষের সেবা নিতে আসার ক্ষেত্রে ঘুর পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা বেশ কষ্টসাধ্য।
চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন জানান, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রতিনিধি/টিবি