Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি ছিলেন বাংলাদেশের তৈয়েব হাসানের সহকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম

স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার হাইভোল্টেজ বিশ্বকাপ ফাইনাল ঘিরে যখন বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা, তখন বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এসেছে গর্বের এক খবর। ফুটবল বিশ্বকাপের মর্যাদাপূর্ণ ফাইনালে চতুর্থ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন জর্ডানের আদহাম মাখাদমেহ। এশিয়ার এই রেফারির বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর পথচলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের রেফারিং ইতিহাসের অন্যতম পরিচিত নাম তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান।

ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায়, তৈয়েব হাসানের সঙ্গে আদহাম মাখাদমেহর এই যোগসূত্র তৈরি হয়েছিল ১৩ বছর আগে। ২০১৩ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল। ওই ম্যাচে প্রথম দক্ষিণ এশীয় রেফারি হিসেবে প্রধান রেফারির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের ফিফা এলিট রেফারি তৈয়েব হাসান শামসুজ্জামান। সেই ম্যাচে তার অধীনে চতুর্থ রেফারি হিসেবে সাইডলাইনে দায়িত্ব পালন করেছিলেন জর্ডানের তরুণ রেফারি আদহাম মাখাদমেহ।

সাফের সেই মঞ্চে বাংলাদেশের তৈয়েব হাসানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আদহামই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের ফাইনালে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন।

সাবেক সহকর্মীর এমন অর্জনে উচ্ছ্বসিত তৈয়েব হাসান বলেন, আদহাম মাখাদমেহর এই সাফল্য এশিয়ার রেফারিংয়ের জন্য বড় গৌরবের। খবরটি শোনার পর তার ২০১৩ সালের সাফ ফাইনালের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। তখন আদহাম খুব তরুণ ছিলেন, তবে তার মনোযোগ ও শেখার আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। আমার অধীনে সেদিন তিনি চতুর্থ রেফারি হিসেবে কাজ করেছিলেন। আর আজ তিনি বিশ্বকাপের মতো আসরের ফাইনালে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবেন—একজন অগ্রজ ও সাবেক সহকর্মী হিসেবে এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু হতে পারে না।

তৈয়েব হাসান আরও বলেন, আদহামের এই উত্থান এ অঞ্চলের তরুণ রেফারিদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। সঠিক পরিশ্রম ও সততা থাকলে সাফের আঙিনা থেকে উঠে এসেও একদিন বিশ্বকাপের ফাইনালে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব।

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলো ছড়ানো তৈয়েব হাসান পেশায় একজন শিক্ষক। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুনামের সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করলেও শেকড়ের টানে নিজের জেলা সাতক্ষীরাতেই তার বেশির ভাগ সময় কাটে।

এখন পর্যন্ত দক্ষিণ এশিয়ার কোনো রেফারি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাননি। তবে তৈয়েব হাসান বিশ্বমানের রেফারিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এশিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। বাংলাদেশের রেফারিংয়ে তিনি গড়েছেন অনন্য মাইলফলক। দেশের ইতিহাসে তিনিই সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার গৌরব অর্জন করেছেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর ফিফা রেফারি এবং ১০ বছর এএফসি এলিট প্যানেলে দায়িত্ব পালন করেছেন তৈয়েব হাসান। মাঠে নিখুঁত রেফারিংয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের জনহিতকর কর্মকাণ্ডের জন্যও তিনি ফিফা ও এএফসি প্রেসিডেন্টদের কাছ থেকে প্রশংসা ও সম্মান পেয়েছেন।

এশিয়ান ফুটবলে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে তিনি পেয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ এএফসি মোমেন্টো রেফারিজেস অ্যাওয়ার্ড। ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত করেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকেও তিনি একাধিকবার রাষ্ট্রীয় পদক ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন।

স্পেন-আর্জেন্টিনার ফাইনালে যখন চতুর্থ রেফারি হিসেবে আদহাম মাখাদমেহকে দেখা যাবে, তখন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের গর্বের সঙ্গে স্মরণে আসবে তৈয়েব হাসানের নাম। মাখাদমেহর বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর এই যাত্রা প্রমাণ করে, এশিয়ার রেফারিংয়ের উন্নতিতে অভিজ্ঞ ও গুণী রেফারিদের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিনিধি/এআর