Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

প্রেমের টানে চীনা যুবক কসবায়, ধর্মান্তরিত হয়ে করলেন বিয়ে

জেলা প্রতিনিধি

১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় প্রেমের টানে চলে এলেন চীনা যুবক সোহান চাও (৩৮) ওরফে মোহাম্মদ। তিন মাসের প্রেমের সূত্র ধরে বাংলাদেশে এসে ধর্মান্তরিত হয়ে প্রেমিকা আয়েশা সুলতানাকে (২১) বিয়ে করে এক মাসের বেশি সময় ধরে দেশে অবস্থান করছেন এই চীনা যুবক।

আয়েশা সুলতানা কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। ওই যুবক চিনের হানান প্রদেশের নানিয়াং শহরের বাসিন্দা সংফু ফ্যাং এর ছেলে।

তিনদিন হল উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামে মেয়ের বাড়িতে আসে সোহান চাও। শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কৌতুহলী মানুষ আয়েশা সুলতানার বাড়িতে জড়ো হয় চীনা যুবককে দেখার জন্য এবং প্রত্যন্ত গ্রামে চীনা যুবকের উপস্থিতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

চীনা যুবকের স্ত্রী আয়েশা সুলতানা জানায়, তিন মাস আগে ওয়ালটপ নামে অনলাইন সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয় চিনের হানান প্রদেশের নানিয়াং শহরের বাসিন্দা যুবক সোহান চাওয়ের সঙ্গে। সোহান চাও চীনের ওই এলাকার সংফু ফ্যাং এর একমাত্র ছেলে। দুজনের তিন মাস ধরে কথা হচ্ছে তাদের মাঝে। এরমধ্যেই প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সেই তিন মাসের প্রেমের সূত্র ধরে (১২ জুন) বাংলাদেশে আসে সোহান চাও। আয়েশা সুলতানা তাকে বিমানবন্দর থেকে রাতের বেলায় নিয়ে আসে গ্রামের বাড়ি বাইসার। পরে (১৪ জুন) তাকে নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে হাই কোর্টের আইনজীবী লিমা আক্তারের যোগাযোগ করেন বলে জানান আয়েশা। সেখানে আইনজীবীর মাধ্যমে সোহান চাওয়ের বাবা সংফু ফ্যাং এর সঙ্গে কথা হয় তাদের। সোহান চাওয়ের বাবার সঙ্গে কথা বলার পর আয়েশার পরিবারের কথা মেনে ধর্মান্তরিত হয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করেন সোহান চাও। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। পরে তারা বিয়ে করেন এবং ঢাকায় বসবাস করতে থাকেন। বৃহস্পতিবার স্ত্রী আয়েশা সুলতানার বাড়িতে নিয়ে আসেন জামাই চীনা যুবক সোহান চাও ওরফে মোহাম্মদকে। এ ঘটনা জানা জানির পর এলাকার মানুষ ভিড় করতে থাকেন তাকে দেখার জন্য।

আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, গত (১২ জুন) দেশে আসে চীনা যুবক সোহান চাও। ১৪ জুন ঢাকায় গিয়ে উকিলের মাধ্যমে খোঁজ খবর নিয়ে মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করার পর তার সঙ্গে মেয়েকে বিয়ে দিই। এতদিন ঢাকায় বসবাস করতো। মেয়ের কাগজপত্র তৈরি হচ্ছে। তাকে চিনে নিয়ে যাবে। আমি জেনে শুনেই বিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ খবর নিচ্ছি। বিস্তারিত জানার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রতিনিধি/টিবি