Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হঠাৎ টর্নেডোর তাণ্ডব, লন্ডভন্ড সুগন্ধা পয়েন্ট

জেলা প্রতিনিধি

১৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সুগন্ধা পয়েন্টে হঠাৎ আঘাত হেনেছে একটি টর্নেডো। মাত্র কয়েক মিনিটের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৈকতের পর্যটক সেবার জন্য রাখা অর্ধশতাধিক চেয়ার ও ছাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। টর্নেডোর আকস্মিক আঘাতে সৈকতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্টে আঘাত হানে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দায়িত্বরত সি সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার সিনিয়র কর্মী জয়নাল আবেদীন ভূট্টো জানান, শুক্রবার কলাতলী পয়েন্টের সোজা গভীর সমুদ্রে টর্নেডোটির সৃষ্টি হয়। এটি প্রায় ২০ মিনিট সমুদ্রের ওপর অবস্থান করে। এ সময় সৈকতে থাকা অসংখ্য পর্যটক বিরল এই দৃশ্য উপভোগ করেন এবং অনেকেই মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

তিনি বলেন, টর্নেডোটি ধীরে ধীরে উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে শুরু করলে লাইফ গার্ড সদস্যরা পানিতে থাকা পর্যটকদের নিরাপদে উঠে আসার জন্য বারবার বাঁশি (উইসেল) বাজিয়ে সতর্ক করেন। তবে শুরুতে অনেক পর্যটক সেই সতর্কবার্তাকে গুরুত্ব দেননি।

জয়নাল আরও জানান, একপর্যায়ে টর্নেডোটি সুগন্ধা পয়েন্ট অতিক্রম করে সি-গাল পয়েন্ট দিয়ে উপকূলে উঠে আসে। এ সময় প্রবল ঘূর্ণিবাতাসে পর্যটক, হকার ও ছাতা-চেয়ার ব্যবসায়ীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এছাড়া সৈকতে থাকা ১০ থেকে ২০টি ছাতা ও চেয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাগরের দিক থেকে ঘূর্ণায়মান বাতাস ধীরে ধীরে বালুচরের দিকে এগিয়ে এসে মুহূর্তের মধ্যে সুগন্ধা পয়েন্টের একটি অংশে আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতায় সৈকতে থাকা চেয়ার, ছাতা ও অন্যান্য হালকা সামগ্রী বাতাসে উড়ে যেতে থাকে। এতে আতঙ্কিত হয়ে পর্যটকেরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলম বলেন, সাগরের দিক থেকে উঠে আসা টর্নেডোর আঘাতে সৈকতে পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য রাখা ৫২টি কাঠের চেয়ার ও ৬১টি ছাতা ভেঙে যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় সৈকত-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আরেক প্রত্যক্ষদর্শী সুমন রহমান বলেন, টর্নেডোটি খুব অল্প সময় স্থায়ী হলেও এর গতি ছিল অত্যন্ত প্রবল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সৈকতের পরিবেশ এলোমেলো হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর পর্যটকেরা ধীরে ধীরে সৈকতে ফিরে আসেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত চেয়ার ও ছাতাগুলো সরিয়ে সৈকতের পরিবেশ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আব্দুল হান্নান বলেন, সমুদ্রসৈকতের কাছে যে ঘূর্ণিবাতাসটি দেখা গেছে, সেটি একটি দুর্বল প্রকৃতির টর্নেডো। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তিনি বলেন, টর্নেডো অত্যন্ত ধ্বংসাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এ ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া উচিত। টর্নেডোর মূল ঘূর্ণি বা ফানেল অংশের সংস্পর্শে এলে মানুষ কিংবা বিভিন্ন বস্তু বাতাসে প্রায় ১০০ ফুট পর্যন্ত ওপরে উঠে যেতে পারে, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই এমন পরিস্থিতিতে কৌতূহলবশত টর্নেডোর কাছাকাছি অবস্থান করা উচিত নয়।

আব্দুল হান্নান আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টর্নেডো দেখা গেলেও যুক্তরাষ্ট্রে এর ঘটনা তুলনামূলক বেশি। বাংলাদেশেও অতীতে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী টর্নেডোর ঘটনা ঘটেছে। সাধারণত গ্রীষ্মকালে টর্নেডোর প্রবণতা বেশি থাকলেও, অনুকূল আবহাওয়া ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বছরের অন্য সময়েও টর্নেডো হতে পারে।

প্রতিনিধি/ এজে