Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

খাল খনন: শ্রমিকের বদলে এক্সকাভেটর ব্যবহারের অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি

১৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম

ঢাকার দোহার উপজেলার রাইপাড়া ইউনিয়নের বালুঘাটা থেকে পালামগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার খাল পুনঃখননের কাজে শ্রমিকের বদলে এক্সকাভেটর (ভেকু) ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এ সময় খালের দুই পাড়ের বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। 

তাদের দাবি, এতে পরিবেশের পাশাপাশি জমির মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলা প্রশাসনের অধীনে খাদ্য কর্মসূচির (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) আওতায় প্রায় দেড় মাস আগে খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়। তিন কিলোমিটার খালের মধ্যে ইতোমধ্যে প্রায় দুই কিলোমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকল্পের শুরু থেকেই শ্রমিকের পরিবর্তে এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। যন্ত্র চলাচলের সুবিধার্থে খালের দুই পাড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, খালটি অনেক পুরোনো হওয়ায় এর পাড়ে ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরোনো গাছও ছিল। গাছ অপসারণের ফলে এলাকায় সবুজের পরিমাণ কমে গেছে এবং পাখির আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

লক্ষীপ্রসাদ এলাকার খবির উদ্দিন বলেন, পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জেনেছি, ব্রিটিশ আমলে খালটি খনন করা হয়। খালের বাইরে আমাদের নিজস্ব জমিতে বাঁশঝাড় ও অন্যান্য গাছ ছিল। খননকাজে ভেকু ব্যবহারের কারণে সেগুলো কেটে ফেলতে হয়েছে। আমাদের কোনো লিখিত নোটিশ না দিয়েই অল্প সময়ের মধ্যে গাছ কাটতে বলা হয়। বাঁশ বিক্রি করে বছরে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় হতো। এখন সেই আয়ের উৎস নষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের আগে বিষয়টি আরও বিবেচনা করা উচিত।

রাইপাড়ার বাসিন্দা রতন ভূইয়া বলেন, আমার ১২টি বাঁশঝাড় উপড়ে ফেলা হয়েছে। এছাড়া ছয়টি বড় মেহগনি গাছও কাটতে হয়েছে। যদি শ্রমিক দিয়ে কাজ করা হতো, তাহলে হয়তো আমাদের এত ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।

খননকাজে ব্যবহৃত এক্সকাভেটরের তদারকির দায়িত্বে থাকা আবু বকর বলেন, আমাদের যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই কাজ করছি। কোথাও কোনো সমস্যা বা আপত্তি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

দোহার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, প্রকল্পটি উপজেলা প্রশাসনের খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম হওয়ায় খননকাজে এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। খাল খননের সময় কারও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের তালিকা করে সহযোগিতা দেওয়া হবে।

গাছ কাটার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্দেশনা দিয়েছি, যথাসম্ভব গাছ সংরক্ষণ করে খাল খননের কাজ পরিচালনা করতে হবে।