Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পুনঃখননে প্রাণ ফিরেছে নোনা খাড়িতে, কৃষকের মুখে হাসি

জেলা প্রতিনিধি

১৩ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২ এএম

দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় মৃত হয়ে পড়েছিল নোনা খাড়ি। বর্ষায় জলাবদ্ধতা, আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটে দুর্ভোগ ছিল নিত্যসঙ্গী। সেই খাড়িই এখন নতুন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় পুনঃখনন কাজ শেষের পথে, আর এরই মধ্যে কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে জেগেছে নতুন আশার আলো।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ৬ নম্বর ভান্ডারা ইউনিয়নের পাকুড়া স্থলবন্দর থেকে উত্তরে বোচাগঞ্জ উপজেলার সীমানা পর্যন্ত বিস্তৃত নোনা খাড়িটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে প্রায় অস্তিত্ব হারাতে বসেছিল। খাড়িতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় কৃষিজমিতে সেচ সংকট, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় নানা ভোগান্তি ছিল এলাকাবাসীর নিত্যদিনের বাস্তবতা।

এই অবস্থার পরিবর্তনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় নেওয়া হয়েছে নোনা খাড়ি পুনঃখনন প্রকল্প। প্রায় ২৩ লাখ ৩৯ হাজার ২৬৬ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হয়েছে ড্রেন ও কালভার্ট। খালের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দুই পাড়ে লাগানো হচ্ছে ঘাসের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ।

8b218350-d58a-4dda-837b-5097f721041b

প্রকল্পটি শুধু একটি খাল পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি অতিদরিদ্র মানুষের জন্য কর্মসংস্থানেরও সুযোগ তৈরি করেছে। প্রকল্পে স্থানীয় শ্রমিকদের অংশগ্রহণে যেমন আয়-রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার মাধ্যমে পুরো এলাকার অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষ হওয়ায় খুশি স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দারা।

স্থানীয় কৃষক মামুন বলেন, আগে আমাদের এলাকার কৃষিজমিতে ঠিকমতো ধান চাষ করা যেত না। বর্ষা মৌসুমে জমিতে দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হতো। এখন নালাটি পুনঃখনন হওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে। এতে জলাবদ্ধতা কমবে এবং ধানসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ সহজ হবে বলে আমরা আশা করছি।

স্থানীয় বাসিন্দা সমমের বলেন, আগে এই নালায় পানি চলাচলের পথ বন্ধ থাকায় এলাকায় প্রায়ই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। খননকাজের পর এখন পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে। এতে জলাবদ্ধতা যেমন কমবে, তেমনি কৃষিজমি ও মানুষের চলাচলেও অনেক সুবিধা হবে।

e6cb33ee-9e0a-4357-b596-7dbc4ec93510

কৃষকরা বলছেন, আগে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির অভাবে জমি আবাদ করতে হিমশিম খেতে হতো। আবার বর্ষা এলে জলাবদ্ধতায় ক্ষতির মুখে পড়তেন তারা। এখন খাড়ি পুনঃখনন, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের ফলে এসব সমস্যার অনেকটাই দূর হবে। পাশাপাশি কৃষিকাজ ও যাতায়াতও আগের তুলনায় সহজ হবে বলে তাদের প্রত্যাশা।

দিনাজপুর -২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সাদিক রিয়াজ চৌধুরী পিনাক বলেন, খালের দুই পাড়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করা হয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং অক্সিজেনের জোগান বাড়বে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষ ফল ও অন্যান্য উৎপাদনের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। আমরা এমন একটি টেকসই পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই, যা প্রকৃতি ও মানুষের জন্য সমানভাবে কল্যাণকর হবে।

প্রতিনিধি/টিবি