নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারের কারণে সৃষ্ট চট্টগ্রামের বন্যা কবলিত এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী। জেলার সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা কবলিত এলাকা সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে সেনাবাহিনী।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাতে জেলা প্রশাসনের অনুরোধে শনিবার থেকেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পিডবোট ও নৌকা নিয়ে উদ্ধার অভিযানে নেমেছে। কোন উপজেলায় কয়টি স্পিডবোট প্রয়োজন এবং কোন এলাকাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সেনাবাহিনীকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, টানা প্রায় চার দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে পাহাড়ি ঢল ও সাগরের উত্তাল জোয়ারে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বাঁশখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িসহ জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের সবকটিই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শুধু এই উপজেলাতেই চার লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলা ও মহানগরের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বন্যাকবলিত হয়েছে। বর্তমানে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৬৪৮টি পরিবার পানিবন্দি এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৪ হাজার ৫৯০ জন। পাহাড়ধস, দেয়ালধস ও পানিতে ডুবে এ পর্যন্ত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন পাঁচজন।
জেলা প্রশাসক বলেন, অনেক এলাকায় সাধারণ নৌকাও পৌঁছাতে পারছে না। তাই দুর্গম এলাকায় স্পিডবোট ব্যবহার করে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হবে। উদ্ধার হওয়া মানুষের জন্য জেলার ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে ২৩ হাজার ৮৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবারের পাশাপাশি রান্না করা খাবারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, বন্যার্তদের জন্য এ পর্যন্ত ৭০০ মেট্রিক টন চাল ও ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৩ লাখ টাকা, ২২ হাজার ২৫০টি শুকনো খাবারের প্যাকেট এবং ৯ হাজার ৮০০টি রান্না করা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বর্তমানে আরও ৪০০ মেট্রিক টন চাল ও ১৭ লাখ টাকা জরুরি ত্রাণ হিসেবে মজুত রয়েছে।
সাতকানিয়ার জন্য এরইমধ্যে ৯ লাখ টাকা ও ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নগুলোতে ওই চাল দিয়ে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। জেলার অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাতেও একই কার্যক্রম চলছে। সাতকানিয়ার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনের পর চট্টগ্রামের জন্য অতিরিক্ত বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাসও পাওয়া গেছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
বন্যাকবলিত সাতকানিয়া, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। সন্দ্বীপে সহায়তা করছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। পাশাপাশি পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবকেরা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারি ছুটির দিনেও সবাইকে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু খাল দখল নয়, খালে বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলার কারণেও পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছে। খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে ফ্রিজ, জাজিমসহ নানা ধরনের বর্জ্য পাওয়া যাচ্ছে। খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দিনের তুলনায় বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত আরও কমলে পাহাড়ি ঢলের পানিও নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শনিবার সাংগু নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে স্লুইস গেট ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা সচল রাখতে কাজ চলছে।
বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। সরকার ও জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির সম্পূর্ণ উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তিনি বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও স্বেচ্ছাসেবীদের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এর আগে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশন বন্যাদুর্গত বিভিন্ন উপজেলায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আইএসপিআর জানায়, টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী এই চারটি উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এর ফলে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন কর্তৃক দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সরঞ্জামাদি মোতায়েন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ফলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উক্ত উপজেলাগুলোতে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই অঞ্চলগুলোতে আটকে পড়া মানুষদের জন্য নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উদ্ধার অভিযান ও ত্রাণ কার্যক্রম দ্রুত এবং সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাদুর্গত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরের মতোই দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বদ্ধপরিকর। দুর্গত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এদিকে পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগের মধ্যে কার্যালয়ে বসে নির্দেশনা দেওয়ার বদলে দুর্গত মানুষের দুয়ারে পৌঁছে গেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১০ জুলাই) তিনি সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন ও পৌরসভা এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল এক কেজি করে মুড়ি, চিড়া ও চিনি, দুটি বিস্কুটের প্যাকেট, দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি, চারটি মোমবাতি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সামছুজ্জামানসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে এমপি সরোয়ার আলমগীর
শপথ গ্রহণের পরদিনই নিজ নির্বাচনি এলাকা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গিয়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর।
শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার হারুয়ালছড়ি ও সুন্দরপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এ সময় দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নিয়ে তাদের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন নবনির্বাচিত এই সংসদ সদস্য। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার সার্বিক পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করেন।
সরোয়ার আলমগীর বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ফটিকছড়ির কোনো মানুষ যেন অসহায় অবস্থায় না থাকে, সেই লক্ষ্যে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব। সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সবাই মিলে বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা-‘করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে, প্রবীণ বিএনপি নেতা আহমেদ হোসেন তালুকদার, মোবারক হোসেন কাঞ্চন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী, জেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব নাজিম উদ্দীন শাহীনসহ দলীয় নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মেয়রের ত্রাণ পেলেন হাজারো মানুষ
গত কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও জোয়ারের প্রভাবে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে শুক্রবার (১০ জুলাই) হাজারো মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে পাঁচলাইশ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের অক্সিজেন কুয়াইশ সংযোগ সড়কের ওয়াজেদিয়া, বোর্ড অফিস, চালিতাতলী বাজার, হাজীপাড়া, বেলতলা, শহীদনগরসহ ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন।
এ সময় তিনি পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন, তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং আশ্রয়কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় অবস্থানরত হাজারো মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। সিটি মেয়রের পক্ষ থেকে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রায় দশ হাজার পরিবারের মাঝে রান্না করা এবং শুকনো খাবার বিতরণ করা হয় বলে জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে অস্বাভাবিক ও রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বসে থাকিনি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, সিডিএ, চট্টগ্রাম ওয়াসা, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিয়ে সমন্বয় সভা করেছি এবং মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম তদারকি করেছি। কোথায় কী সমস্যা হচ্ছে, কোথায় পানি আটকে আছে, কীভাবে দ্রুত পানি নিষ্কাশন করা যায়, এসব বিষয়ে একযোগে কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা। পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার, আশ্রয়কেন্দ্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা, খাবার বিতরণ এবং জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা মাঠে কাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মেয়র সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পানি দ্রুত নিষ্কাশন, খাল ও নালা সচল রাখা এবং জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী রিফাতুল করিম, উপপ্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মাসহ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মেয়রের নির্দেশনা গ্রহণ করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাফর আহমেদ, আশরাফুল ইসলাম, আবু ইউসুফ, মহানগর বিএনপির সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক জি এম আইয়ুব খান, সাবেক দফতর সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী, বায়েজিদ থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের জসিম, বিএনপি নেতা আব্দুর রহিম প্রমুখ।
প্রতিনিধি/এফএ