Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

অন্তঃসত্ত্বাকে লাথি মেরে গর্ভপাত: বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি

জেলা প্রতিনিধি

০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে লাথি মেরে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি নেতা ফেরদৌস মিয়ার (৪২) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নেত্রকোনার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (মোহনগঞ্জ আমলি আদালত) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজানা হক এ আদেশ দেন।

আদালত পুলিশের জিআরও (জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার) রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ফেরদৌস মিয়া মোহনগঞ্জ উপজেলার সুয়াইর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।

ভুক্তভোগী আশা আক্তার (২১) একই উপজেলার সুয়াইর গ্রামের সালমান শাহর স্ত্রী। ঘটনার সময় তিনি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৩ জুন আশা আক্তার তার বাবার বাড়ি পালগাঁও গ্রামে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার ভাইয়ের একটি কুকুর প্রতিবেশী ফেরদৌস মিয়ার ছাগলের কাছে গেলে তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস মিয়া ও তার সহযোগীরা আশার ভাই জুয়েল মিয়াকে মারধর করেন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আশার বাবা দিলখোশ মিয়া ও মা সালেমা আক্তারও হামলার শিকার হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় বাধা দিতে গেলে অন্তঃসত্ত্বা আশা আক্তারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং তার পেটে লাথি মারেন ফেরদৌস মিয়া। পরে তার রক্তক্ষরণ শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন তার গর্ভপাত হয়।

ঘটনার পরদিন আশার বাবা দিলখোশ মিয়া মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগীর স্বামী সালমান শাহ অভিযোগ করেন, অভিযোগের পর পুলিশ ফেরদৌস মিয়াকে আটক করলেও স্থানীয় নেতাদের আশ্বাসে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ৫ জুন তিনি বাদী হয়ে ফেরদৌস মিয়াসহ ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জয় পাল বলেন, মামলার ছয় আসামির মধ্যে বৃহস্পতিবার পাঁচজন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে প্রধান আসামি ফেরদৌস মিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস