জেলা প্রতিনিধি
০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
ভারত থেকে চাল আমদানির গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের অন্যতম বৃহৎ ধান-চালের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ধানের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বাজারে ধানের দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন কৃষক ও ব্যাপারীরা। তবে খাদ্য বিভাগ বলছে, সরকার ভারত থেকে চাল আমদানির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, এ–সংক্রান্ত তথ্য গুজব।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার প্রতি কেজি ধানের সংগ্রহমূল্য ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে, যা প্রতি মণে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। তবে কৃষকদের অভিযোগ, বাজারে তাঁরা এ দামের কাছাকাছিও পাচ্ছেন না। অনেক এলাকায় প্রতি মণ ধান ৮৫০ থেকে ১ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিজয়নগর উপজেলার কৃষক রফিক মিয়া বলেন, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও ধানের ন্যায্য দাম মিলছে না। সরকার সীমিতসংখ্যক কৃষকের কাছ থেকে অ্যাপের মাধ্যমে ধান কিনছে। অধিকাংশ কৃষককে কম দামে ব্যাপারীদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

নাসিরনগরের কৃষক সোহাগ মিয়া বলেন, ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছেন। শ্রমিক খরচসহ উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারে ধানের দাম সেই তুলনায় নেই। সরকারের নির্ধারিত দামে সবাই ধান বিক্রির সুযোগও পান না।
এদিকে বাজারসংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর দাবি, সরকার ভারত থেকে প্রায় দেড় লাখ টন চাল আমদানি করবে— এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক চালকল মালিক ধান কেনা কমিয়ে দিয়েছেন। এতে আশুগঞ্জ মোকামে হাজার হাজার মণ ধান নিয়ে আসা কৃষক ও ব্যাপারীর বিপাকে পড়েছেন।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন থেকে ধান নিয়ে আসা ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, তিনি প্রতি মণ ধান ১ হাজার ১০০ টাকায় কিনে এনেছেন। কিন্তু এখন ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। নৌকায় ধান নিয়ে প্রতিদিন বসে থাকলে অতিরিক্ত খরচ বাড়ছে।

অষ্টগ্রামের ব্যবসায়ী মিলন চন্দ্র দাস বলেন, তিন দিন ধরে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।
অন্যদিকে কয়েকজন চালকল মালিক বলেন, মিলে উৎপাদিত চাল বিক্রি কমে গেছে। বাজারে চালের চাহিদা কম এবং চাল আমদানির গুঞ্জনের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে চাল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক নূর আলী বলেন, সরকার এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি করছে— এ ধরনের তথ্য সঠিক নয়। এটি গুজব। বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯০ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকার ১১ হাজার ৫৫ মেট্রিক টন ধান, ৪ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৬৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল সংগ্রহ করবে।
প্রতিনিধি/এসএস