নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
চট্টগ্রামে মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পর নগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাবে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত থেমে থেমে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এতে চট্টগ্রাম অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতরের পতেঙ্গা কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী আগের ২৪ ঘণ্টায় পতেঙ্গায় ৩৩০ দশমিক ৮ থেকে ৪১২ দশমিক ৩ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সময়ে আমবাগান আবহাওয়া কেন্দ্রে ২৫৯ থেকে ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার (৬ জুলাই) অতি ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। ফলে আগ্রাবাদ, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর, রামপুর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মোহরাসহ নগরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে যায়।

জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকেই নগরের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। বিমানবন্দরগামী যাত্রী, অফিসগামী মানুষ ও দিনমজুরেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। নগরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বৈরী আবহাওয়ার কারণে ক্লাস ও অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা স্থগিত করে।
চট্টগ্রামের আবহাওয়া ও ভূপ্রাকৃতিক কেন্দ্রের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান বলেন, ‘চলতি মৌসুমে এটি ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। গত কয়েক বছরের মধ্যেও এমন বৃষ্টিপাত হয়নি। নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। এতে নদ-নদীর পানি বেড়ে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘এত বেশি বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যাওয়া সম্ভব নয়। জোয়ারের সময় পানি সাগরে নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়ে, ভাটার সময় ধীরে ধীরে পানি নেমে যায়।’

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত বহাল রয়েছে। জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে কর্ণফুলী নদীতে জোয়ার শুরু হওয়ার কথা ছিল, যা নিম্নাঞ্চলের জলাবদ্ধতা আরও বাড়াতে পারে।’
নগরের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা থেকে বৃষ্টির পানির সঙ্গে পাহাড় ধসে আসা মাটিও নিচু এলাকায় নেমে আসতে দেখা গেছে। এতে কয়েকটি এলাকায় পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, নগরের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানি দ্রুত সরাতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি), চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও সেনাবাহিনীর একাধিক দল মাঠে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। তিনি জানান, ভারী বর্ষণে লালখান বাজার এলাকায় কয়েকটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। পতেঙ্গা বিমানবন্দর সড়কের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরে তিনি নগরের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল বলেন, ‘পতেঙ্গা এলাকায় ফ্লাইওভারের কাজের জন্য তৈরি করা একটি অস্থায়ী বাইপাস সড়কের শোল্ডারের কিছু অংশ ভারী বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করেছে।’
এমআই