Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ভারী বৃষ্টিতে ডুবেছে চট্টগ্রামের নিচু এলাকা, পাহাড়ধসের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

সোমবার (৬ জুলাই) মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতে ডুবে গেছে চট্টগ্রামের কিছু নিচু এলাকা। এতে ভোগান্তি বেড়েছে মানুষের। ভারী বৃষ্টির কারণে দেখা দিয়েছে পাহাড়ধসের আশঙ্কাও। ফলে পাহাড় থেকে সরে যেতে মাইকিং শুরু করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত কমিশনার (সার্বিক) ওমর ফারুক। 

তিনি জানান, সোমবার দিবাগত রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে ডুবেছে নগরীর কিছু নিচু এলাকা। অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টির কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

89b3700a-b215-4c33-9984-a33904df2bf8

এছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় থেকে বাসিন্দাদের সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নগরীর লালখান বাজার ও আকবরশাহ এলাকায় দুটি স্কুলে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে বসবাসরত বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

এছাড়া পাহাড়ধসের আশঙ্কায় নগরীর মতিঝরনা, আকবরশাহ, ১ নম্বর ঝিল, ২ নম্বর ঝিল, বিজয় নগর, জিয়া নগর, বেলতলীগোনা, খুলশী, বায়েজিদ, সলিমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর সোমবার সন্ধ্যা থেকে মাইকিং শুরু করেছে। তারা বাসিন্দাদের পাহাড় থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এসব নির্দেশ বাসিন্দারা কানে তুলছেন না। নগরীর বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিতে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার পরিবার বসবাস করছে বলে সূত্র জানায়।

এদিকে নগরবাসীর তথ্যমতে, সোমবার দিনগত মধ্যরাত থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা, ডিসি রোড, তেলপট্টি, চান্দগাঁও, বাদুরতলাস, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর, পতেঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার সড়কগুলো কোথাও হাঁটু পরিমাণ আবার কোথাও হাঁটুর চেয়ে বেশি পরিমাণ পানিতে তলিয়ে গেছে।

9e551946-cb50-47a0-be75-0a2ec55ae0ca

নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মো. মহিউদ্দিন জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি সড়ক ও নিচু এলাকায় পানি থই থই করছে। ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাসা থেকে বের হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় তারা ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। মৌসুমী নিম্নচাপের কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সমুদ্র বন্দরগুলোকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। আরও দুই থেকে তিন দিন মাঝারি ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানান তিনি।

এদিকে বৃষ্টির সময় সোম ও মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের বাস্তব চিত্র, খাল-নালা ও ড্রেনের পানি প্রবাহ, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানসমূহের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

eeae0f95-46fe-4358-97a6-b9eef82ba36c

মেয়র বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্ট টিম দ্রুত সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছি।’

জলাবদ্ধতা নিরসনে জনগণকে নালা নর্দমায় ময়লা আবর্জনা না ফেলে সিটি করপোরেশনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান মেয়র।

প্রতিনিধি/এমআই