Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

পেঁয়াজের দরপতনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিলেন ইউএনও

জেলা প্রতিনিধি

০৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম

পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, সংরক্ষণ সংকট ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফরিদপুরের সালথা উপজেলার কৃষকদের সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। তিনি কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারদর, সংরক্ষণ সমস্যা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয় তুলে ধরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

এর আগে, ন্যায্যমূল্য না পেয়ে ক্ষোভে সালথার কয়েকজন কৃষক উৎপাদিত পেঁয়াজ ডোবা ও পানিতে ফেলে দেন। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর কৃষকদের সংকটের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার অর্থনীতির বড় একটি অংশ পেঁয়াজ চাষের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। তাই বাস্তব পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে, যাতে কৃষকদের জন্য কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।

তিনি জানান, প্রতিবেদনের সঙ্গে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরি, জমির ইজারা, পরিবহন ও সংরক্ষণ ব্যয়সহ পেঁয়াজ উৎপাদনের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ের হিসাব সংযুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি উন্নতমানের বীজ সরবরাহ, পর্যাপ্ত সার বরাদ্দ, আধুনিক কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণাগার নির্মাণ, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহের সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সালথার প্রায় ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদযোগ্য জমির মধ্যে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টরে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২২ থেকে ২৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যেখানে উৎপাদন ব্যয় প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা। ফলে প্রতি কেজিতে কৃষকদের প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা না থাকায় মৌসুমেই কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। উৎপাদন খরচও তুলতে না পেরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ, মণপ্রতি 'ধলতা' নামে অতিরিক্ত দুই কেজি পেঁয়াজ নেওয়া বন্ধ এবং আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সালথাসহ ফরিদপুরের সম্ভাবনাময় পেঁয়াজ উৎপাদন এলাকায় কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে তাদের জীবনমানের উন্নতির পাশাপাশি দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিনির্ভরতা কমবে। এতে কৃষকদের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহও বৃদ্ধি পাবে।

ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, “কৃষক বাঁচলে কৃষি বাঁচবে তাই তাদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। আশা করছি, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।”