জেলা প্রতিনিধি
০৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী বৈশাখী খাতুন (১৮)। ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না। হাঁটার সময় হাঁটুর নিচ থেকে দুই পা বেঁকে যায়। তাই চলাফেরা করতে হয় কষ্ট করে। তবে শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কিংবা দারিদ্র্য—কোনোটিই থামাতে পারেনি তার পড়াশোনা। সব প্রতিকূলতা জয় করে এবার উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন তিনি। ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান বৈশাখী।
বৈশাখী নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের ভ্যানচালক মো. মন্নু মোল্যা ও ডালিম বেগমের মেয়ে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জন্মগত শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই নানা প্রতিকূলতার মধ্যে বেড়ে উঠেছেন বৈশাখী। তিনি মাইজপাড়া কেডিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করে বর্তমানে মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।

শুধু শারীরিক প্রতিবন্ধকতাই নয়, চরম দারিদ্র্যও তার শিক্ষাজীবনের বড় বাধা। অভাব-অনটনের মধ্যেই চলছে পরিবারের জীবনযাপন।
বৈশাখীর বাবা মো. মন্নু মোল্যা বলেন, আমার কোনো আবাদি জমি নেই। সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে দুই শতক জমি কিনেছি। পরে আবার ঋণ নিয়ে একটি ছোট ঘর করেছি। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই, কিস্তিও পরিশোধ করতে হয়। বৈশাখী পড়াশোনায় খুব ভালো। কিন্তু অভাবের কারণে তাকে ঠিকমতো পড়াতে পারছি না। আমার ছোট ছেলেও টাকার অভাবে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। কেউ যদি মেয়েটার লেখাপড়ার দায়িত্ব নিত, তাহলে ও আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারত।
মা ডালিম বেগম বলেন, মেয়ের পড়াশোনার খুব আগ্রহ। কিন্তু আমরা বই-খাতা কিনে দিতে পারি না, প্রাইভেটও পড়াতে পারি না। সে সহপাঠীদের কাছ থেকে বই এনে বা নোট করে নিজেই পড়াশোনা করে। সমাজের বিত্তবান কেউ সহযোগিতা করলে মেয়েটা উচ্চশিক্ষা নিতে পারত।

বৈশাখী বলেন, আমি শিক্ষক হতে চাই। জীবনে অনেক স্বপ্ন আছে। সব প্রতিবন্ধকতা জয় করে ভালো কিছু করতে চাই। সবার কাছে আমার জন্য দোয়া চাই।
মাইজপাড়া ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক সূচিন্দনাথ মণ্ডল বলেন, বৈশাখী খুবই মেধাবী ছাত্রী। শারীরিক প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমি যতটুকু সম্ভব তাকে বইসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করি। উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ পেলে সে অবশ্যই তার লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) টি এম রাহসিন কবির বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বৈশাখীকে থামাতে পারেনি। তার সাহস, আত্মবিশ্বাস ও অদম্য মনোবল অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা। উপজেলা প্রশাসন সব সময় তার পাশে থাকবে।
এ বছর নড়াইল জেলায় এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষায় মোট ৫ হাজার ৫৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে এইচএসসিতে ৫ হাজার ২১৩ জন এবং আলিমে ৩২০ জন পরীক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রতিনিধি/এসএস