Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আমের আবাদ বাড়ছে

জেলা প্রতিনিধি

০৪ জুলাই ২০২৬, ১২:১৭ পিএম

খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আমের আবাদ বাড়ছে। পাহাড়ের অনুকূল আবহাওয়া, জলবায়ু ও উর্বর মাটির কারণে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করে কৃষকেরা সাফল্য পাচ্ছেন। দেশি আমের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি দাম পাওয়ায় বিদেশি জাতের আম চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

যেসব বিদেশি ও রঙিন জাতের আমের আবাদ হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্ল্যাক স্টোন, মিয়াজাকি, কিউজাই, নাম ডক মাই, হানিভিউ, রেড পালমার, ইতালিয়ান অস্টিন, ব্যানানা, আমেরিকান পারমাল, আমেরিকান কেইন, আর-টু-ইটু, রেড এমপেরর, রেড আইভেরি, আমেরিকান কেন্ট, কেইট, মহাচনক, কেষর, পুষা, পুষা সুরিয়া, অরুণিমা, পুষা অরুণিমা, তোতাপুরী, কাটিমন, কারাবাও, অস্ট্রেলিয়ান কেনসিংটন প্রাইড, টমি অ্যাটকিন্স, আলফানসো, বেইলির মার্ভেল, থ্রি টেস্ট, মায়া, থাই কাঁচা মিঠা, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড (ফ্লোরিডা) ও অস্টিন গোল।

de82ab56-3e59-42a9-93d2-dc576be93f17

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে দেশি ও বিদেশি জাতের আমের আবাদ হয়েছে।

এদিকে বিদেশি জাতের আমের চাষ সম্প্রসারণে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। তবে আম বিপণনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাগান মালিকেরা।

বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা রঙিন আম। বাগানিরা শ্রমিক নিয়ে পুরোদমে আম সংগ্রহ করছেন। ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানোর জন্য চলছে আমের প্যাকেটিং।

da53d074-2c0f-41b3-83d9-753faf3e274d

সদর উপজেলার ২ নম্বর কমলছড়ি নতুনপাড়া এলাকার কৃষক মংশিতু চৌধুরী বলেন, তার বাগানে ৫৪টি রঙিন জাতের আম রয়েছে। এর মধ্যে ৪০টি জাত কয়েক বছর ধরে ফলন দিচ্ছে। ৩০ একরের বেশি জমিতে প্রায় ৪ হাজার গাছ রয়েছে। এসবের মধ্যে ব্ল্যাক স্টোন, কিউজাই, নাম ডক মাই, মিয়াজাকি, আমেরিকান পালমার, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, থাইল্যান্ডের চিয়াংমাই, রেড লেডি, আপেল ম্যাঙ্গো, দোকমাই ও কেনসিংটন প্রাইডসহ বিভিন্ন বিদেশি জাতের আমের আবাদ করেছেন। প্রায় সব গাছেই ভালো ফলন হয়েছে। এ বছর প্রায় ২০ টন আম উৎপাদনের আশা করছেন তিনি। দেশি আমের তুলনায় বিদেশি জাতের আমের দাম বেশি পাওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারাও এ চাষে ঝুঁকছেন।

1fb167bb-e809-4083-8f78-6e0f80c61f77

মংশিতু চৌধুরী বলেন, বিদেশে রফতানির লক্ষ্য নিয়েই তিনি এসব আমের আবাদ করছেন। এ বছর রফতানির জন্য ল্যাবে আবেদন করেছেন। সনদ পেলে আগামী বছর থেকে রপ্তানি শুরু করবেন। বর্তমানে তার আমের বড় একটি অংশ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে।

রঙিন আমচাষি উমংচিং মারমা বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে রঙিন আমের চাষ শুরু করলেও ভালো ফলন ও ভালো দাম পাচ্ছেন। তার বাগানে ২০টি রঙিন জাতের মধ্যে পাঁচটি জাতের গাছ বেশি রয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ গাছ রয়েছে। দেশি আমের তুলনায় রঙিন আমের দাম বেশি হওয়ায় জেলার প্রায় সব বাগানেই কমবেশি এসব জাতের আবাদ বাড়ছে।

5bfbc000-1c52-4715-bacc-4c1c369490b5

কৃষক মংশিতু চৌধুরী জানান, ব্ল্যাক স্টোন প্রতি কেজি ৫০০ টাকা, মিয়াজাকি ২৫০ টাকা, কিউজাই ১০০ টাকা, নাম ডক মাই ১৫০ টাকা, হানিভিউ ৩০০ টাকা, রেড পালমার ৩০০ টাকা, ইতালিয়ান অস্টিন ৫০০ টাকা, ব্যানানা ১০০ টাকা, আমেরিকান পারমাল ৫০০ টাকা, আমেরিকান কেইন ১৫০ টাকা, আর-টু-ইটু ১৫০ টাকা, রেড এমপেরর ৩০০ টাকা, রেড আইভেরি ১৫০ টাকা, আমেরিকান কেন্ট ১৫০ টাকা, কেইট ১৫০ টাকা, মহাচনক ৭০ টাকা, পুষা ৩০০ টাকা, পুষা সুরিয়া ৩০০ টাকা, অরুণিমা ৩০০ টাকা, তোতাপুরী ১৫০ টাকা এবং কাটিমন ১০০ টাকা কেজি দরে বাগান থেকেই বিক্রি হচ্ছে।

8c40075a-715e-47f5-a21e-bfbfa03d531b

খাগড়াছড়ি ফলদ বাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক কালো বরণ চাকমা বলেন, আম বাগান মালিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। টোল কমানো হলে বাগান মালিকেরা আরও লাভবান হবেন।

খাগড়াছড়ি মারমা ফলজ বাগান মালিক সমিতি লিমিটেডের আহ্বায়ক আবুশ্যি মারমা বলেন, দেশি জাতের তুলনায় ভালো ফলন ও ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা বিদেশি জাতের আমের বাগান করছেন। তাদের সমিতিতে ৮০ জনের বেশি সদস্য রয়েছেন। প্রায় সবার বাগানেই কমবেশি বিদেশি জাতের আমের আবাদ রয়েছে।

881a5d3f-1d89-4361-a4fd-6ca0f8e7c525

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন বলেন, কয়েক বছর ধরে খাগড়াছড়িতে বিদেশি জাতের আমের আবাদ বাড়ছে। পালমার, মিয়াজাকি, ব্যানানা, চিয়াংমাই, কিউজাইসহ বিভিন্ন জাতের চাষ হচ্ছে এবং এর পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

86e895c7-1434-4187-97f1-64eb20737520

তিনি বলেন, এসব জাতের অনেকগুলো এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। সবগুলো যে বাণিজ্যিকভাবে উপযোগী হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। আরও দুই-এক বছর পর্যবেক্ষণের পর কোন কোন জাত বাণিজ্যিকভাবে সুপারিশ করা যাবে, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

খাগড়াছড়ি পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মালেক জুয়েল বলেন, খাগড়াছড়িতে সম্প্রতি কৃষকেরা কিছু বিদেশি ও রঙিন জাতের আমের চাষ শুরু করেছেন। এসব জাত নিয়ে তাদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। জার্মপ্লাজম সংগ্রহ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নতুন জাত অবমুক্ত করা সম্ভব হবে। এ ছাড়া রঙিন জাতের আমের প্রতি পর্যটকদেরও ভালো চাহিদা রয়েছে।

প্রতিনিধি/এসএস