জেলা প্রতিনিধি
০৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৪ এএম
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় পূর্ববিরোধের জেরে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার পশ্চিম আলীপুর এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের খেয়াঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত রাজন শিকদার কালকিনি উপজেলার ১৫৮ নম্বর চর আলীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি কালকিনি পৌরসভার দক্ষিণ রাজদী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মাজেদ শিকদারের ছেলে।

ভুক্তভোগী, স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগমের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যের টিফিন বিতরণ নিয়ে রাজন শিকদারের বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে টিফিন বিতরণকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়। পরে বিদ্যালয় ছুটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে পশ্চিম আলীপুর খেয়াঘাট এলাকায় রাজনের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লার বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেন রাজন শিকদার। হামলায় তার ডান পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। পরে রাত ১২টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
রাজন শিকদার অভিযোগ করেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিফিন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদ করায় লিপি বেগমের ভাই মিলন মোল্লা ও তার সহযোগীরা আমার ওপর হামলা চালায়। এতে আমার একটি পা ভেঙে গেছে এবং অন্য পায়েও গুরুতর আঘাত লেগেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিপি বেগম। তিনি বলেন, ‘রাজন শিকদার প্রায়ই আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তার ওপর কারা হামলা করেছে, সে বিষয়ে আমার কোনো জানা নেই।’
অভিযুক্ত মিলন মোল্লার বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস