জেলা প্রতিনিধি
৩০ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
হাজারো কিলোমিটার দূরত্ব, ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতি—কোনো বাধাই থামাতে পারেনি তাদের ভালোবাসাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকে বন্ধুত্ব, তারপর প্রেম। শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কের পরিণতি ঘটেছে বিয়েতে। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে যশোরের তরুণী তন্দ্রা খাতুনকে বিয়ে করেছেন চীনা যুবক লি বিং।
ব্যতিক্রমী এই বিয়েকে ঘিরে যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। চীনা জামাইকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাউলিয়া গ্রামের বাসিন্দা মন্টু মোল্লার মেয়ে তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলার তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত। প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
তন্দ্রা খাতুন জানান, গত ১৮ জুন লি বিং বাংলাদেশে আসেন। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লি বিং স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
তন্দ্রা বলেন, সে শুধু আমাকে বিয়ে করার জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের পর দুই দিন আমরা হোটেলে ছিলাম। এখন সে আমাদের বাড়িতেই আছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। ভিসাসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আমি তার সঙ্গে চীন চলে যাব।
লি বিং জানান, তিনি চীনের একটি স্মার্ট লক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
বাংলাদেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী খুব ভালো। বাংলাদেশের পরিবেশও আমার ভালো লেগেছে। শ্বশুরবাড়ির সবাই আন্তরিক ও যত্নশীল। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। বাংলাদেশকে আমার ভালো লেগেছে। তন্দ্রাকে বিয়ে করতে পেরে আমি খুব আনন্দিত।
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটি মেয়েকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। দুই পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। মেয়ের সুখই আমাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া।
প্রতিবেশী কুলসুম বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় আগে কোনো চীনা ছেলে এসে বিয়ে করেছে বলে শুনিনি। তাই সবাই আগ্রহ নিয়ে চীনা জামাইকে দেখতে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উৎসবের মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্তদেশীয় প্রেম এখন যশোরজুড়ে আলোচনার বিষয়। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বের সীমা অতিক্রম করে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। আর সে কারণেই বাউলিয়া গ্রামের একটি সাধারণ বাড়ি এখন কৌতূহলী মানুষের পদচারণায় মুখর।
প্রতিনিধি/এসএস