Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আসামি ধরে দিলেন বাদী, পুলিশের হেফাজত থেকেই ‘গায়েব’

জেলা প্রতিনিধি

২৯ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

শরীয়তপুরের জাজিরায় হামলার একটি মামলার আসামিকে বাদী নিজেই আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পরও তিনি পুলিশের হেফাজত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদী। তবে ওসির দাবি, তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থাকায় আটক ব্যক্তি মামলার আসামি কি না বা তিনি জামিনে আছেন কি না, তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে জাজিরা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২ মার্চ জাজিরা পৌরসভার খোশাল সিকদার কান্দি এলাকায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানের সংবাদ সংগ্রহ করতে যান দৈনিক মাতৃজগত–এর শরীয়তপুর প্রতিনিধি মিলন মিয়া। পরদিন ৩ মার্চ জাজিরা পুরাতন বাজার এলাকায় ঈদের কেনাকাটা করতে গেলে মাদক-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের জেরে স্থানীয় ইলিয়াস মাদবরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে বলা হয়, হামলার সময় মনির মাদবর চাপাতি দিয়ে তার মাথায় কোপ দেন এবং সহর আলী মাদবর লোহার রড দিয়ে আঘাত করলে তার বাম হাতের কনুই ভেঙে যায়। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর ও হত্যার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ওই মামলার ১২ নম্বর আসামি ইমরান মুন্সি।

মামলার বাদী সাংবাদিক মিলন মিয়া বলেন, সোমবার সকালে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় তিনি ইমরান মুন্সিকে দেখতে পান। পরে তাকে আটক করে মামলার কাগজপত্রসহ জাজিরা থানার ওসির কাছে সোপর্দ করেন।

ওসি তখন বলেন, ‘আমি আসামিকে গ্রেফতার করেছি।’ এরপর ইমরানকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি কক্ষে রাখা হয়। কিছু সময় পর দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা সেখান থেকে সরে গেলে তিনি কৌশলে বেরিয়ে যান।

এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ এনে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদী।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, ইমরান মুন্সির বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন না। তাই আটক ব্যক্তি মামলার আসামি কি না কিংবা তিনি জামিনে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।’

প্রতিনিধি/এসএস