জেলা প্রতিনিধি
২৯ জুন ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম
ভারী বৃষ্টি ও ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সব গেট খুলে দেওয়ায় হু হু করে বাড়ছে তিস্তার পানি। পানির তোড়ে তিস্তা নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বহু পরিবার।
সোমবার (২৯ জুন) বিকেলে ডালিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার বিকেলে ভারত গজলডোবা ব্যারাজের ৪০টি গেট খুলে দেওয়ার পর তিস্তার পানি কখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে আবার কখনও নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের রংপুরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানিয়েছেন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে উত্তরের ৫ জেলার চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি জানান, ভারত গজলডোবা ব্যারেজের ৪০টি গেট খুলে দেয়ায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রোববার বিকেলের দিকে ভারত গজলডোবা গেটগুলো খুলে দেয়। ফলে রাত ১১টা পর্যন্ত পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তরের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের অন্তত ৮ হাজার পরিবার। তিনি বলেছেন, পানি বাড়ার সাথে সাথে উত্তরের ৫ জেলায় দেখা দিয়েছে ভাঙন। গত ২৪ ঘণ্টায় এই ৫ জেলার ২৬টি ঘরবাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।
ইতোমধ্যে তিস্তার পানি বাড়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন কৃষকরা। রাতে পানি বাড়লেও সকালের দিকে কমতে শুরু করে। আবার বিকেল থেকে পানি বাড়ছে। এরই মধ্যে নিম্নাঞ্চল অনেক এলাকায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
গংগাচড়ার মহিপুর চর এলাকার কৃষক সুজন মিয়া জানান, পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও সন্তানদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন। একই কথা জানান চর রাজিবপুর এলাকার মাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, তিস্তার একটা সমাধান দরকার। বছরের কয়েকবার করে এমন কষ্টের মধ্যে পরতে হয়। এভাবে বেঁচে থাকা কষ্টকর।
৫ নম্বর লক্ষীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ হাদি বলেন, তিস্তার পানি বাড়ায় রংপুর জেলার গংগাচড়া উপজেলার ৫ নম্বর লক্ষীটারী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। সরেজমিনে গিয়ে পানিবন্দি পরিবারের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়িয়েছি। আরো সহায়তা দরকার। প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী ঢাকা মেইলকে বলেন, তিস্তার পানি কখনো বিপৎসীমার ওপরে আবার কখনো নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকার কারণে চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রতিনিধি/এআর