জেলা প্রতিনিধি
২৯ জুন ২০২৬, ০৩:৩৮ পিএম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে ও দুই হাতের রগ কেটে হত্যার অভিযোগে ফারজানা আক্তার মুন্নি (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা রক্তমাখা একটি চাপাতি ও একটি ছুরিও জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ফতুল্লার দেলপাড়ার চানাচুর ফ্যাক্টরি গলির নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে ফতুল্লা মডেল থানা-পুলিশ।
নিহত জাহাঙ্গীর আলম জনি (৪১) ঢাকার কদমতলী থানার ঢালকানগর বৈশাখী হাউজিং এলাকার আব্দুস শাকুরের ছেলে।
ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর আলম বলেন, ফারজানা আক্তার মুন্নির দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম জনি। একসময় জনি মুন্নির প্রথম স্বামীর ব্যক্তিগত গাড়ির চালক হিসেবে কাজ করতেন। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে প্রায় পাঁচ বছর আগে মুন্নি প্রথম স্বামীর সংসার ছেড়ে জনিকে বিয়ে করেন। এরপর ফতুল্লার দেলপাড়ায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন। তাদের সংসারে একটি সন্তান রয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, জাহাঙ্গীর আলম জনি ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের বারে চাকরি করতেন। অন্য নারীর সঙ্গে জনির সম্পর্ক রয়েছে—এমন সন্দেহ থেকে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।
ওসি মাহাবুবুর আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, রোববার রাতে খাবারের সঙ্গে পাঁচটি ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে জনিকে খাওয়ানো হয়। গভীর রাতে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে পূর্বপরিকল্পিতভাবে চাপাতি দিয়ে তার গলা কেটে এবং দুই হাতের রগ কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত স্ত্রীকে গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বলে দাবি করা রক্তমাখা চাপাতি ও ছুরি জব্দ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।
প্রতিনিধি/এসএস