Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আড়তদারদের কাছে জিম্মি আম চাষিরা, লোকসানের পাল্লা ভারী

জেলা প্রতিনিধি

২৮ জুন ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম

দেশের অন্যতম বৃহৎ আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। বাগানগুলোতে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা-কাঁচা আম। চলছে সংগ্রহ, বাছাই ও বাজারজাতকরণের ব্যস্ততা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাষি ও ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখর দেশের সর্ববৃহৎ জেলার সাপাহার আমের মোকাম। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও চাষিদের মুখে নেই স্বস্তির হাসি। কারণ, গেল বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের আমের দাম কম অন্যদিকে বাজারে প্রচলিত এক মণ ৪০ কেজির পরিবর্তে ৫২ থেকে ৫৫ কেজিতে মণ ধরে চাষিদের কাছ থেকে আম কিনছেন আড়তদাররা।

চাষিরা বলছেন, এবার উৎপাদন খরচ বাড়লেও আমের বাজারদর কম থাকায় লোকসানের পাল্লা ভারি। এছাড়া আম উৎপাদনের চেয়ে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমের ওজন নির্ধারণ নিয়ে। ওজনের প্রাচীন ঢলন পদ্ধতি আমচাষিদের লাভের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে। তাদের অভিযোগ, প্রাচীন ঢলন পদ্ধতি চলা এ অনিয়ম দেখার যেন কেউ নেই। প্রশাসন থেকে বলা হলেও কোনো সুরাহা নেই। ফলে আড়তদারদের কাছে জিম্মি হয়ে অতিরিক্ত ওজনে আম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। যা তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

cdf991d5-5006-41ff-90a3-9c4988ca7d14

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ মেট্রিক টন।

সাপাহার আমের মোকামে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যান ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটিতে ক্যারেটভর্তি করে আম্রপালি, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আম এনেছেন চাষিরা। সাপাহার উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট-গোডাউনপাড়া সড়ক, জিরোপয়েন্ট-তিলনা সড়ক, জিরোপয়েন্ট-হাসপাতাল মোড় সড়ক, জিরোপয়েন্ট-থানা মোড় সড়কসহ কয়েক কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসেছে আমের বাজার। তবে আমের দাম ও ওজনের হিসাব নিয়ে অসন্তোষ চাষিরা।

আম চাষি তারেক বলেন, আমের আশানুরূপ দাম নেই। বাগান পরিচর্যা, শ্রমিক, সার ও কীটনাশকের খরচ বেড়েছে। গত বছরের চেয়ে এবার সব ধরনের আমের দাম মণে ৫০০ থেকে ১০০০ হাজার টাকা কম। এভাবে আমের দাম থাকলে আমাদের লোকসান হবে। আবার ব্যবসায়ীরা মণে ১৪ কেজি বেশি নিচ্ছে। এতে করে কৃষকের কাছে কিছুই থাকে না। এভাবে কৃষকের ঘাড়ে বছরের পর বছর লোকসান থেকে যায়। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি দেখলে কৃষকরা একটু লাভবান হবে।

আরেক আম চাষি আব্দুর রহমান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে আমের মণের ওজনের পরিমাণ বাড়ছে। ৪৪ কেজি থেকে শুরু হয়ে এখন ৫২ থেকে ৫৫ কেজি নেওয়া হচ্ছে। বাজার সিন্ডিকেট করে আড়তদাররা আম কিনছেন। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে আরও তিন-চার কেজি বেশি দিতে হয়। দেখা যায় ১৩ মণ আম বিক্রি করলে ১০ মণ আমের দাম পাওয়া যায়। তাহলে লাভ করার সুযোগ কোথায়? উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে আমরা শঙ্কায় আছি।

আম চাষি মেহেদী হাসান বলেন, কৃষকরা নিরুপায়। বাজার সিন্ডিকেট করে সকালে এক দামে আবার বিকেলে আরেক দামে আম কিনেন আতড়দাররা। আম সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় এবং আম পচনশীল হওযায় আড়তদাররা যে দাম বলে সেই দামে বিক্রি করতে হয়। কৃষক ছাড়া সবাই লাভবান হয়।

4e284fb6-2f06-4a6e-8a78-9f89db9f9fdc

সাপাহার আম ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইমাম হোসেন রিফাত বলেন, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন মোকামে মণে ৫৪-৫৬ কেজি শুধু আমই নেওয়া হয়। কিন্তু সাপাহার মোকামে ক্যারেটসহ ৫০ কেজি হিসেবে আম ক্রয় করা হচ্ছে। তারপরও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। আমাদের কাছে খবর আসলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশেপাশের মোকামের চেয়ে ওজন অনেক সহনশীল আছে বলেও দাবি করেন তিনি।

 

এবিষয়ে সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ বলেন, আমরা বাজার মনিটরিং করছি। তারপরও কেউ অভিযোগ দিলে সেখানে আমরা অভিযান চালাবো। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন কাজ করছে।

প্রতিনিধি/টিবি