নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
বঙ্গোপসাগরে অভিযান চালিয়ে মিয়ানমারে পাচারকালে ১ হাজার ৪৫০ বস্তা সিমেন্টসহ ২টি ফিশিং বোট জব্দ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। পাচারকাজে জড়িত ২১ জনকে আটক করেছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে নৌবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার ভোরেগোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপ হতে আনুমানিক ১৩ মাইল দূরে পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।
অভিযানে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সিমেন্ট বহনকারী 'এফবি ফাতেমা হোসনা' এবং 'এফবি নিঝু রাব্বি' নামক ২টি ইঞ্জিনচালিত দেশীয় কাঠের ফিশিং বোট আটক করা হয়। আটককৃত বোট দুটিতে তল্লাশি করা হয়। এ সময় এফবি ফাতেমা হোসনা থেকে ১০ জন পাচারকারীসহ ৬৫০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট এবং 'এফবি নিঝু রাব্বি' থেকে ১১ জন পাচারকারীসহ ৮০০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে সর্বমোট ২১ জন পাচারকারীকে আটক এবং ১ হাজার ৪৫০ বস্তা ডায়মন্ড সিমেন্ট জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি, জব্দকৃত বোট এবং সিমেন্টের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনী দেশের সমুদ্রসীমায় চোরাচালান, মাদক ও অন্যান্য অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এর আগে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকা থেকে মিয়ানমারে পাচারকালে ৩০০ বস্তা সিমেন্টসহ একটি বোট জব্দ করে কোস্ট গার্ড। শনিবার (২৭ জুন) সকালে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার বিএন সুমন আল মুকিত।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃস্পতিবার (২৫ জুন) ভোর ৫টায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহিঃনোঙরে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গা ও নরম্যান্স পয়েন্টে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে শুল্ক কর ফাঁকি দিয়ে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার ৩০০ বস্তা সিমেন্টসহ পাচার কাজে ব্যবহৃত বোট জব্দ করা হয়।
এ সময় চোরাকারবারিরা কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। জব্দ করা সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম গ্রহণ করা রয়েছে। চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
প্রতিনিধি/ এজে