জেলা প্রতিনিধি
২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় মামুন মোল্লা (৪২) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দেওয়ার এবং তার ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনার পর পুলিশি তল্লাশিতে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের মালিখালী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, মামুন মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে তার পরিবারের দাবি, পুরোনো অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলার শিকার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় একটি প্রাইভেটকারে করে এলাকায় আসেন মামুন মোল্লা। এ সময় কয়েকজন তাকে মাদক কারবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হয়ে তাকে মারধর করে। পরে উত্তেজিত জনতা তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকারে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত অবস্থায় মামুন মোল্লাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মামুনের বাবা মানিক মোল্লা বলেন, তার ছেলে ফরিদপুর আদালতে একটি মামলায় হাজিরা দিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। দুপুরে খাওয়াদাওয়া শেষে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে আত্মীয়ের প্রাইভেটকার নিয়ে বের হলে পথে তাকে আটক করে মারধর করা হয় এবং গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।
তিনি দাবি করেন, তার ছেলে একসময় মাদকাসক্ত থাকলেও অনেক আগে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর যৌথ বাহিনীর এক অভিযানে মামুন মোল্লার বাড়ি থেকে ইয়াবা ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করা হয়েছিল। তবে ওই অভিযানের সময় তিনি পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মামুনের বিরুদ্ধে মাদক ও প্রতারণাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাকে মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। তবে তার কাছ থেকে কোনো মাদক উদ্ধার হয়নি। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গাড়ি ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস