Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

গাজীপুরে এপেক্সের ৪ কারখানা বন্ধ ঘোষণা, কর্মহীন ৪ হাজার শ্রমিক

জেলা প্রতিনিধি

২২ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এপেক্স হোল্ডিংস লিমিটেডের চারটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এতে প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

শ্রমিকদের সার্ভিস বেনিফিট–সংক্রান্ত দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সম্প্রতি এপেক্স হোল্ডিংসের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স টেক্সটাইল প্রিন্টিং মিলস লিমিটেড, এপেক্স লন্ড্রি মিলস লিমিটেড এবং এপেক্স ইয়ার্ন ডাইং লিমিটেডের একাংশ শ্রমিক ১০ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ১৫ মাস এবং ৫ বছর চাকরি সম্পন্নকারীদের জন্য ৭ মাসের মূল মজুরি সার্ভিস বেনিফিট হিসেবে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৫ জুন শ্রমিক প্রতিনিধি, কারখানা কর্তৃপক্ষ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর (ডিআইএফই) এবং বিজিএমইএর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ডিআইএফই জানায়, বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী সার্ভিস বেনিফিট পরিশোধ করতে হবে।

আরও পড়ুন

গাজীপুরে পানি পান করে শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ

পরে ২০ জুন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, বর্তমানে প্রচলিত সার্ভিস বেনিফিট সুবিধা বহাল থাকবে। তবে শ্রমিকদের দাবি করা অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। একই সঙ্গে শ্রম আইন মেনে উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তবে প্রতিষ্ঠানের দাবি, রোববার শ্রমিকদের একটি অংশ অতিরিক্ত সুবিধার দাবিতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় এবং কারখানার স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্নিত করে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ১৩(১) ধারা অনুযায়ী চারটি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২২ জুন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানাগুলোর সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন বলেন, শ্রমিকদের দাবি নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হলেও সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ কারণে কর্তৃপক্ষ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারা অনুযায়ী কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে কারখানা এলাকায় কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি।

প্রতিনিধি/এসএস