Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রাজবাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলন, ভালো দামের আশায় কৃষক

জেলা প্রতিনিধি

২২ জুন ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে চলতি মৌসুমে রাজবাড়ীতে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন দুলছে সবুজ পাটখেত। ভালো ফলনে খুশি কৃষকরা। তবে তাদের প্রত্যাশা, বাজারে ন্যায্য দাম পেলে গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা ও গোয়ালন্দ উপজেলায় এবার পাটের ফলন বিশেষভাবে ভালো হয়েছে। এ অঞ্চলের তোষা ও দেশি জাতের পাট দেশের বিভিন্ন স্থানে উন্নত মানের সোনালি আঁশ হিসেবে পরিচিত।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে প্রায় ৪৯ হাজার ১২২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পেঁয়াজ ও অন্যান্য রবি ফসল ঘরে তোলার পর অনেকেই পাট চাষে ঝুঁকেছেন। বীজ বপনের পর থেকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় গাছের বৃদ্ধি হয়েছে সন্তোষজনক। রোগবালাইও তুলনামূলক কম।

সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের কৃষক করিম শেখ বলেন, এবার সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় পাটের গাছ ৮ থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়েছে। ফলন খুব ভালো। এখন বাজারে ভালো দাম পেলে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারব।

আরও পড়ুন

নাটোরে বিদেশি জাতের মিষ্টি আঙুর চাষে আমজাদের বাজিমাত

বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর এলাকার কৃষক লতিফ মণ্ডল বলেন, কৃষি অফিস থেকে উন্নত বীজ ও সার পেয়েছি। ফলে ফলন ভালো হয়েছে। তবে পাট জাগ দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে।

পাংশা উপজেলার যশাই ইউনিয়নের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, ফলন নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে পাট বিক্রির সময় যেন কোনো অসাধু চক্র দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন।

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের জমিতেও এবার পাটের ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের মানও ভালো হয়েছে। এখন শুধু ন্যায্যমূল্যের অপেক্ষা।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জনি খান বলেন, রাজবাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং ফলনও আশাব্যঞ্জক। কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পানির সংকট দেখা দিলে আধুনিক ‘রিবন রেটিং’ পদ্ধতিতে পাট পচানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাজারে পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে আগামী বছর এ অঞ্চলে পাটের আবাদ আরও বাড়বে।

প্রতিনিধি/এসএস