Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় কারাগারে পুলিশ কনস্টেবল

জেলা প্রতিনিধি

২২ জুন ২০২৬, ০৪:২০ এএম

স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাসকে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাসের স্ত্রী প্রভাতী রানী দাশ যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ধারা-৩ অনুযায়ী হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা নং-৫৮/২০২৪ (লাখাই) দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০১৭ সালে তাদের বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস স্ত্রীর কাছে ৪ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি সন্তানসহ তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১১ মে অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস পুনরায় তার স্ত্রীর পিত্রালয়ে গিয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। প্রভাতী রানী দাশ টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে গালিগালাজ করে যৌতুক ছাড়া সংসার করবেন না বলে সেখান থেকে চলে যান। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

মামলা দায়েরের পর আদালত প্রথমে আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরবর্তীতে আদালতে হাজির না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে তিনি জামিন লাভ করলেও আদালতের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী সমঝোতা না করায় এবং পরবর্তীতে আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে পুনরায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

রোববার (২১ জুন) হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মামলাটির চার্জ গঠন ও শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিকালে অনন্ত চন্দ্র বিশ্বাস আদালতে উপস্থিত হলে বিচারক তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আবু নঈম মোল্লা, অ্যাডভোকেট মো. শিবলী খায়ের ও অ্যাডভোকেট আলমগীর।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত তারিখে অনুষ্ঠিত হবে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান থাকবে।

/এএস