১৯ জুন ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
যশোর জেলা জাতীয় পার্টিতে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকট দেখা দিয়েছে। জেলা কমিটির আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ বিভিন্ন স্তরের ২৬ জন শীর্ষ ও তৃণমূল নেতা একযোগে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ ঘোষণা দেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় পার্টির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও কর্মকাণ্ডে তারা হতাশ। দলটির ভেতরে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার অভাব এবং শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের অসাংগঠনিক ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে জাতীয় পার্টি দেশ ও জনগণের জন্য বর্তমান কিংবা ভবিষ্যতে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে না বলে তারা মনে করছেন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব কারণ বিবেচনায় তারা দল থেকে একযোগে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইসঙ্গে আজ থেকে জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের আর কোনো সাংগঠনিক বা রাজনৈতিক সম্পর্ক নেই বলেও ঘোষণা দেন তারা।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন যশোর জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক আজিজুর রহমান আজিজ, সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় জাতীয় ওলামা পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. মুফতি ফিরোজ শাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল, মনিরামপুর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি এম এ হালিম, কেশবপুর উপজেলা সভাপতি জি এম হাসান, শার্শা উপজেলা সভাপতি ডা. আক্তারুজ্জামান আক্তার, যশোর সদর উপজেলা সভাপতি মো. শফিয়ার রহমান, মনিরামপুর উপজেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের সভাপতি বিল্লাল হোসেন, ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, মনিরামপুর উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম, জাতীয় ছাত্র সমাজ নেতা সাইফুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক বজলুর রহমান, শার্শা উপজেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন, জেলা কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান, একরামুল হক জুয়েল, আবু হারেজ, ওসমান গণি সরকার, মাস্টার ফিরোজ এবং সদর উপজেলার সহ-সভাপতি ও জেলা কমিটির সদস্য সেকেন্দার আলীসহ মোট ২৬ জন নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের অভ্যন্তরে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব, নেতৃত্বের মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং কর্মীদের মতামতের মূল্যায়ন না হওয়ার কারণে তারা চরম হতাশার মধ্যে ছিলেন। নানা বিষয়ে বারবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেও কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তারা পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ একযোগে এত বিপুল সংখ্যক নেতার পদত্যাগ যশোরে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক ভিত্তিকে দুর্বল করে দেবে। এর ফলে জেলায় দলটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
প্রতিনিধি/ক.ম/