জেলা প্রতিনিধি
১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কারের জন্য ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সারাদেশে ৪ হাজার ৪৬০টি বিদ্যালয়কে দেড় লাখ টাকা করে মোট ৬৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রকাশিত তালিকায় পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের নামও না থাকায় স্থানীয় বিএনপি নেতকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (অর্থ-রাজস্ব) সেলিনা আখতার স্বাক্ষরিত ৬ মে ২০২৬ তারিখের এক চিঠির ভিত্তিতে গত ১৫ জুন অধিদফতরের ওয়েবসাইটে বরাদ্দপ্রাপ্ত বিদ্যালয়গুলোর তালিকা প্রকাশ করা হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বরাদ্দকৃত অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে ব্যয় করে মেরামত ও সংস্কারকাজ সম্পন্ন করতে হবে।
প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় মোট ৩৮৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামতের জন্য বরাদ্দ পেয়েছে। এর মধ্যে পিরোজপুর জেলায় ৫৯টি বিদ্যালয় দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দের আওতায় এসেছে।
তবে বিস্ময়করভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত জিয়ানগর উপজেলার ৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিও এ তালিকায় স্থান পায়নি।
২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নামে জিয়ানগর উপজেলা গঠন করা হয়। আর এ নামের কারণে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে এ উপজেলাটি উন্নয়ন বঞ্চিত ছিল। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার ২০১৭ সালে নাম পরিবর্তন করে ইন্দুরকানী করে। এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আবারও জিয়ানগর নাম ফিরিয়ে আনা হয়।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ছিল, দীর্ঘদিন উন্নয়নবঞ্চিত এ উপজেলায় নতুন করে উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার হবে। কিন্তু সর্বশেষ প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত বরাদ্দেও কোনো বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

জিয়ানগর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ফরিদ আহম্মেদ বলেন, উপজেলার উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থানীয়ভাবে কোনো সমন্বয় নেই। কেন একটি বিদ্যালয়ও তালিকায় আসেনি, তা তদন্ত করে দেখা উচিত।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কীভাবে বিএনপি শাসনামলে জিয়াউর রহমানের নামে গঠিত পুরো উপজেলার কোনো বিদ্যালয়ই বরাদ্দ পেল না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
এছাড়া বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনেরও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
জিয়ানগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নূরুল আমীন বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান জানান, বিদ্যালয় তালিকা কীভাবে তৈরি হয়েছে সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই এবং জেলা শিক্ষা অফিস এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল না।
অন্যদিকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (অর্থ-রাজস্ব) সেলিনা আখতার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায় থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জিয়ানগর উপজেলা থেকে কোনো বিদ্যালয়ের তথ্য না পাঠানোয় সেখানকার কোনো বিদ্যালয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তবে পরবর্তী অর্থ বছরে জিয়ানগর উপজেলায় বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস