জেলা প্রতিনিধি
১৮ জুন ২০২৬, ১২:০৬ এএম
প্রতিনিধি:
মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার চর-শিলমন্দি এলাকার আলোচিত ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন (৩৭) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পাওনা ৪৯ হাজার টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৩০) আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি হত্যাকান্ডে জড়িত আরও কয়েকজন সহযোগীর নাম-পরিচয়ও আদালতে প্রকাশ করেছেন।
বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের পিবিআই কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন,সংস্থাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আছমা আরা জাহান।
তিনি জানান,নিহত আরিফ হোসেনের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরে গত ১৩ জুন রাতে নুর মোহাম্মদ তার সহযোগীদের নিয়ে আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
তদন্তে জানা যায়, ঘটনার রাতে নুর মোহাম্মদ কৌশলে আরিফকে ডেকে নেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগীদের সহায়তায় তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর অভিযুক্তরা নিহতের মরদেহ ঘটনাস্থলের পাশের একটি পরিত্যক্ত জমিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এরপর, ১৪ জুন ভোরে মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শিলমন্দি এলাকার একটি ঘাসের জমিতে আরিফ হোসেনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই মুন্সিগঞ্জ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
পরে তদন্তের একপর্যায়ে গত ১৬ জুন রাত ৮টা ৪০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর এলাকা থেকে প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করা হয়। একই অভিযানে তার ভাই আকাশকেও আটক করা হয়।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে নুর মোহাম্মদ হত্যাকান্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হলে, তিনি হত্যার ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়।
পিবিআই সূত্রে জানা গেছে,চাঞ্চল্যকর নির্মম এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ ও আকাশ গ্রেফতার হলেও মামলার অন্যান্য আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।
প্রতিনিধি/আরআর