জেলা প্রতিনিধি
১৭ জুন ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
বরিশাল নগরীতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজ হাওলাদারকে পুলিশ গ্রেফতারের পর তার বাড়িঘরে ভাঙচুর করে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর জাগুয়া নতুন হাট এলাকার হাওলাদার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত শনিবার (১৩ জুন) সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হয় চালক নাজমুল হোসেন (২৩)। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর সোমবার (১৫ জুন) নগরীর কালিজিরা নদীর পূর্ব পাড় থেকে ভাসমান ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাজমুলের বাবা বাদী হয়ে এয়ারপোর্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। সেই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত মিরাজ ছাড়া আরও তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনতাই করতে নাজমুলকে শ্বাসরোধ বা আঘাত করে হত্যার পর লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
নিহত নাজমুল বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার বাসিন্দা আব্দুল রশিদ মোল্লার সন্তান।
স্থানীয়রা জানান, সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ নাজমুল হত্যায় প্রধান অভিযুক্ত মিরাজ হাওলাদারকে গ্রেফতার করে। তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরপরই শত শত স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের বিক্ষুব্ধ স্বজনরা মিরাজের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হত্যার শিকার নাজমুলের পরিবারসহ পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন নাজমুল। দুপুর থেকে তার মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও ব্যর্থ হন। ছেলের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরদিন রোববার (১৪ জুন) বাবা আব্দুল রশিদ মোল্লা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর দিন সোমবার (১৫ জুন) কালিজিরা নদী থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

বরিশাল মহানগর পুলিশের (বিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার আব্দুল হান্নান বলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার নাজমুলের অটোরিকশা উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উন্মোচনে পুলিশ তৎপর ছিল। সেই সূত্র ধরেই মিরাজকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আমরা মূল রহস্য উদঘাটন করে আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তবে তাকে গ্রেফতারের পর স্থানীয় কিছু মানুষ উত্তেজিত হয়ে অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেয়। এমন ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। একই সঙ্গে যারা আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে অগ্নিসংযোগ করেছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
প্রতিনিধি/এসএস