images

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিশুশ্রম বন্ধে সমাবেশ, ১২ দাবি পেশ

জেলা প্রতিনিধি

১৫ জুন ২০২৬, ০৭:০৫ পিএম

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং শিশুদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি থেকে বর্জ্য খাতে শিশুশ্রম নির্মূলে ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), ব্রাহ্মণবাড়িয়া এ কর্মসূচি আয়োজন করে। 

এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘শিশুশ্রমকে লাল কার্ড দেখাই: শিশুর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করি, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান গড়ি।’

অনুষ্ঠানে সনাকের ইয়েস সদস্য মো. মারুফ মণ্ডল টিআইবির ১২ দফা দাবি ও সুপারিশ সম্বলিত ধারণাপত্র পাঠ করেন। এতে শিশুশ্রম নিরসনে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হালনাগাদ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে কর্মরত শিশুদের পুনর্বাসন, স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। 

এছাড়া বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণকে শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও নিষিদ্ধ কাজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, পৌরসভা পর্যায়ে নজরদারি বৃদ্ধি, ওয়ার্ডভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

হটলাইন ও বিশেষ পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠনের প্রস্তাব

সুপারিশে বলা হয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে শিশুশ্রমের ঘটনা জানাতে পৃথক হটলাইন চালু করতে হবে। পাশাপাশি ডাম্পিং সাইট, ল্যান্ডফিল ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনগুলোতে বিশেষায়িত শিশুশ্রম পর্যবেক্ষণ ইউনিট গঠন করে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রম আইন-২০০৬ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে অপ্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে যুক্ত শ্রমিকদের নিবন্ধন ও লাইসেন্সের মাধ্যমে মূলধারায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

সমাবেশে সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রভাষক মো. মেহেদী হাসান। 

কর্মসূচিতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সনাক সদস্য মো. আরজু মিয়া। ধারণাপত্র পাঠ করেন ইয়েস সদস্য জয়নাব আক্তার। বক্তব্য দেন-তরী বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক শামীম আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কন্যা সামাজিক সংগঠন-এর সভাপতি করবী চক্রবর্তী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ইউনিটের জেলা কর্মকর্তা বৃন্দাবন মন্ডল। অ্যাক্টিভ সিটিজেন্স গ্রুপের (ভূমি) সদস্য রিপণ দেবনাথ ও সঞ্জয় কুমার দাসসহ বক্তব্য দেন ইয়েস গ্রুপের দলনেতা রাজিব সরকার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন টিআইবির এরিয়া কো-অর্ডিনেটর মো. আব্দুর রহমান। সমাবেশে সনাক, ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস) গ্রুপ, অ্যাকটিভ সিটিজেন্স গ্রুপ (এসিজি), শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী ও স্থানীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি/এএইচ