images

সারাদেশ

মেহেরপুরে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী শিশুসহ আহত ১৪

জেলা প্রতিনিধি

১৪ জুন ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম

মেহেরপুরের গাংনী পৌর শহরে একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। 

রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়ে প্রায় দেড় ঘন্টা যাবত পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ তান্ডব চলে। কুকুরটির আকস্মিক তাণ্ডবে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা সংঘবদ্ধ হয়ে কুকুরটিকে মেরে ফেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উপজেলা পরিষদ গেট এলাকা থেকে কুকুরটির আক্রমণ শুরু হয়। এরপর বাসস্ট্যান্ড, আমিন মিষ্টির গলি, থানা রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়ে বা আক্রমণ করেছে। এতে নারী, শিশু ও বৃদ্ধ কেউই রেহাই পাননি।

থানা রোড এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জিনারুল ইসলাম জানান, হঠাৎ করেই কুকুরটি উন্মত্ত আচরণ শুরু করে এবং পথচারীদের ওপর আক্রমণ‌ শুরু করে। অল্প সময়ের মধ্যেই শহরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ১৪ জন আহত হন। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দোকান ও বাসাবাড়িতে আশ্রয় নেন।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা ডিগ্রি কলেজপাড়ার নুহু (৯), ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মজিদ (৬৩), গাংনী উত্তরপাড়ার মাহাবুর রহমান (১২), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিয়া আক্তার (১২), চৌগাছা গ্রামের হাজি আব্দুল মান্নান (৭০), পশ্চিম মালসাদহ গ্রামের সাদিয়া (১৬), হারদি গ্রামের কাদব আলী (৫৬), গাংনী বাজারপাড়ার মুকুল মিয়া (৪৫), গাংনী বাগানপাড়ার হাবিবুর রহমান (২২), ধানখোলা গ্রামের রফিক (৫৫), ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজুর রহমান (৬০) এবং পূর্ব মালসাদহ গ্রামের হযরত আলীসহ (৫০) আরও দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি।

স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং জলাতঙ্ক (রেবিস) প্রতিরোধে দ্রুত ভ্যাকসিন গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পৌর শহরে দীর্ঘদিন ধরে ভবঘুরে কুকুরের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। তবে এর আগে এ ধরনের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সচেতন মহল ভবঘুরে কুকুর নিয়ন্ত্রণে পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘কুকুরের কামড়ে ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এএইচ