জেলা প্রতিনিধি
১৪ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং মৃত রোগীর মরদেহ আটকে রেখে তার ছেলেকে ‘কান ধরে উঠবস’ ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আবার তারাই আজকে আবারও চিকিৎসককে মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেছেন। এসময় হাসপাতালের পরিচালকের কক্ষের সামনে বিক্ষোভ করতে দেখা যায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের।
রোববার (১৪ জুন) সকাল থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মবিরতি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বহির্বিভাগের সেবায় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মেডিসিন ওয়ার্ডগুলোতে প্রভাব বেশি লক্ষ্য করা যায়। এসময় অনেকেই সময়মতো চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন রোগীর স্বজনরা। তবে রেজিস্টার চিকিৎসকের মাধ্যমে জরুরি সেবা চালু রাখার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মেডিসিন বিভাগে ভর্তি রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে সকালের দিকে রেজিস্টার ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের দেখা কিংবা চিকিৎসা পাওয়া গেলেও বিকেলে ও রাতে তাদের দেখা মেলে না। বিকেলে ও রাতে বিশেষ করে ইন্টার্ন চিকিৎসকরাই চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন। তারাই রোগীদের দেখভাল করেন। আজকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেই ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আসছেন না। যার কারণে রোগীরা সময়মতো চিকিৎ’সা পাচ্ছে না।
ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কেননা এভাবে প্রতিনিয়ত রোগীর লোকজন দ্বারা অপমানিত ও মারধরের শিকার চিকিৎসকরা আর কতদিন হতে থাকবে? এর একটা সমাধান হওয়া দরকার।
ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাদমান মিরাজ বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনার পর চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও হাসপাতালে নিরাপত্তা জোরদারসহ কয়েক দফা দাবিতে তাদের কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি চলবে।
এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, বিভিন্ন দাবিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন, তারপরও হাসপাতালের জরুরি সেবা চালু রাখা হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে কথা বলেছি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে। তাদের দাবিগুলো শোনা হয়েছে। আশা করছি, আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুতই সমাধান হবে।
উল্লেখ্য, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার ভোর ৪টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তির ১৫ মিনিট পর তার মৃত্যু হয়। এসময় অক্সিজেনের অভাবে রোগী মারা গেছে, এমন অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তার ছোট ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে অক্সিজেনের বিষয়কে কেন্দ্র করে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা লাশ মর্গে নিয়ে জিম্মি করে বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। এক পর্যায়ে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। যার কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ থাকে।
অন্যদিকে, মরদেহ হস্তান্তরের দাবিতে রোগীর স্বজনরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
দিনব্যাপী আন্দোলনের এক পর্যায়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মৃতের ছেলে রিফাত হোসেন পরিচালকের কক্ষে উপস্থিত হয়ে সবার সামনে কান ধরে উঠবস করেন। এরপরে মেলে মায়ের লাশ।
প্রতিনিধি/এসএস