জেলা প্রতিনিধি
১২ জুন ২০২৬, ০৯:৩০ পিএম
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ভেতরে এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগসহ পেশাগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও অপেশাদার আচরণের অপরাধে ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
শুক্রবার (১২ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে ওই ১১ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তদন্ত কমিটি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র, সাক্ষ্য-প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং কোতয়ালী থানায় সংরক্ষিত সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বিস্তারিত অনুসন্ধান সম্পন্ন করে এই প্রতিবেদন দাখিল করে।
বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন- এসআই মাসুদ রানা, এসআই আলম বাদশাহ, এসআই আকতারুল ইসলাম, এএসআই মনিরুল ইসলাম, এএসআই আরিফুল ইসলাম, এএসআই মেহেরুন নেসা, কনস্টেবল মোস্তাকুর রহমান খন্দকার, কনস্টেবল মোখলেছুর রহমান মামুন, কনস্টেবল রাকিব আহমেদ, কনস্টেবল লিমা সরেন ও কনস্টেবল ভাবনা রানী।
এ ঘটনায় শুরুতে ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজাদ রহমান, কনস্টেবল লিমা সরেন, বাসুদেব, ডিউটি অফিসার মেহেরুন্নেসা ও সাব-ইন্সপেক্টর মাসুদ রানা।
অভিযোগসমূহ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রমাণিত হওয়ায় পিআরবি’র ৮৮০ বিধি এবং সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এর ধারা ৩৯(১) উপধারার বিধান অনুযায়ী তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত থাকবেন এবং বিধি মোতাবেক খোরপোষ তারা ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।
এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, কোনো পুলিশ সদস্যের দায়িত্বে অবহেলা, অসদাচরণ বা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আরপিএমপি ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয় অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জুন রাতে এক প্রেমিক যুগলের পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশি বৈঠকে ডাক পেয়ে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিব কোতোয়ালী থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে ওই প্রেমিক যুগলকে আটকে রেখে মারধর করতে দেখে বাধা দিতে গেলে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশসদস্য রাকিবকে বেধড়ক মারধর করে রক্তাক্ত করেন। এ ঘটনার খবর পেয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা থানা থেকে উদ্ধার করে তাকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
প্রতিনিধি/এসএস