images

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পৃথক ঘটনায় দুই গৃহবধূ ও এক বৃদ্ধের আত্মহত্যা

জেলা প্রতিনিধি

১২ জুন ২০২৬, ০৮:১৩ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় পারিবারিক কলহ, কিস্তির টাকা নিয়ে বিরোধ এবং মানসিক অবসাদের জেরে পৃথক তিনটি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে দুইজন গৃহবধূ ও একজন বৃদ্ধ রয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরের পর পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

​পুলিশ ও নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের ছতুরা শরীফ গ্রামের তন্তর এলাকার পশ্চিম পাড়ার শাহ-জালালের স্ত্রী সাবেকুর নাহার (২৩) স্বামীর সাথে অভিমান ও পারিবারিক কলহের জেরে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘরে থাকা কীটনাশক ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাড়ে ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বেলা ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

​অন্যদিকে, আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের বলা মিয়ার স্ত্রী নাছিমা বেগম (৪৫) কিস্তির টাকা দেওয়া-নেওয়া নিয়ে স্বামীর ওপর অভিমান করে কীটনাশক পান করেন। 

নিহতের ছেলে সোহাগ জানান, গত বুধবার বিকেলে কিস্তির টাকা নিয়ে তার বাবা-মায়ের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে বৃহস্পতিবার দুপুরে নাছিমা বেগম কীটনাশক পান করেন। বিকেল ৩টার দিকে তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

​ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুই নারী কীটনাশক সেবনে আত্মহত্যা করেছেন। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানায় বিষয়টি অবগত করা হয়েছে এবং অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।"

​এদিকে, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের আশ্রাফবাদ গ্রামের সরকার বাড়ির মৃত মোহন মিয়ার ছেলে আনিছ মিয়া (৫৫) নামের এক ভিক্ষুক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিজ বাড়ির উঠানের কোণে একটি বড়ই গাছে লুঙ্গি প্যাঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

​নিহতের মামা মোবারক মিয়া জানান, আনিছ গত তিন বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে তিনি ও তার মা চলতেন। গত কোরবানির ঈদের পরের দিন তার দ্বিতীয় স্ত্রী বাপের বাড়িতে চলে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। স্ত্রী ফিরে না আসায় তিনি তীব্র মানসিক অবসাদ ও অভিমানে ভুগছিলেন।

​বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াছিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আত্মহত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।"

প্রতিনিধি/ এজে