তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
১১ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই এবার থেকে চ্যাট করার সুবিধা নিয়ে আসতে চলেছে হোয়াটসঅ্যাপ। নতুন এই ব্যবহারকারী নাম বা ইউজারনেম ফিচার নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব বা এফএকিউ প্রকাশ করেছে মেটা। এমন এক সময়ে এই তথ্য সামনে এল, যখন প্রতারণা ও ভুয়া পরিচয়ের ঝুঁকি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার মেটাকে নোটিশ পাঠিয়েছে এবং সরকারের সন্তুষ্টি না হওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা চালু না করার অনুরোধ জানিয়েছে। নতুন এই ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর গোপন রেখেই যোগাযোগের জন্য একটি অনন্য ব্যবহারকারী নাম তৈরি করতে পারবেন।
এই ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ব্যবহারকারীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যবহারকারী নাম যদি কেউ পেতে চান এবং তা যদি না পান, তবে তার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকতে পারে। যেমন, সেটি যদি আগে থেকেই কোনো ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের ব্যবহারকারী নাম হয়ে থাকে, তবে তা সেই অ্যাকাউন্টের মালিকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এ ছাড়া জনপ্রিয় ব্যক্তি, সেলিব্রিটি, সরকারি সংস্থা এবং মেটা ভেরিফাইড অ্যাকাউন্টের নাম ও তার বিভিন্ন রূপ আগে থেকেই সুরক্ষিত রাখা হয়েছে, ফলে তা অন্য কেউ দাবি করতে পারবেন না। সাধারণ কোনো নাম যদি ইতিমধ্যে অন্য কেউ নিয়ে নেন, তবে নাম তৈরির যন্ত্র বা জেনারেটর ব্যবহার করে বিকল্প নাম বেছে নেওয়া সম্ভব।
কেউ যদি অন্যের মতো ব্যবহারকারী নাম তৈরি করে প্রতারণা করার চেষ্টা করে, তবে তার বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। ভবিষ্যতে এই সুবিধার মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর অপশন চালু হলে কোনো অচেনা ব্যক্তি প্রথমবার বার্তা পাঠালে প্রাপককে একটি সতর্কবার্তা দেখানো হবে এবং প্রেরকের দেশের তথ্যও জানিয়ে দেওয়া হবে। এ ছাড়া জনপ্রিয় ব্যক্তিদের নাম তাঁদের বৈধ অ্যাকাউন্টের জন্যই সংরক্ষিত থাকবে এবং প্রতারকদের ঠেকাতে ব্লক ও রিপোর্ট করার ব্যবস্থার ওপরও নজর রাখা হবে।
কারো ব্যবহারকারী নাম কেউ জেনে গেলেও বা আন্দাজ করলেও তিনি সরাসরি বার্তা পাঠাতে পারবেন না। হোয়াটসঅ্যাপে যেভাবে ফোন নম্বর সরাসরি খোঁজ করা যায় না, ঠিক তেমনই কেবল নাম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অচেনা যোগাযোগ এড়াতে ব্যবহারকারীদের ব্যবহারকারী নাম চাবি বা ইউজারনেম কি চালু করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এমন নাম বেছে নিতে বলা হয়েছে যা শুধুমাত্র হোয়াটসঅ্যাপের জন্যই আলাদা থাকে। নতুন অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে অচেনা প্রেরক হলে কমন গ্রুপ বা গ্রুপ আছে কি না কিংবা কোন দেশ থেকে বার্তা এসেছে, তা জানিয়ে সতর্কবার্তা প্রদর্শিত হবে।
ব্যবহারকারী নাম চাবি বা ইউজারনেম কি হলো নিরাপত্তার একটি অতিরিক্ত স্তর। এই সুবিধা চালু করলে কেউ যোগাযোগ করতে চাইলে শুধু নাম জানলেই হবে না, সেই চাবিটিও জানতে হবে এবং প্রয়োজনমতো ব্যবহারকারী যেকোনো সময় এটি পরিবর্তন করতে পারবেন। ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করাও বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ যদি ওই প্ল্যাটফর্মের নামই হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করতে চান, তবে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট যুক্ত করতে হবে, যা ভুয়ো পরিচয় রোধ করতে সাহায্য করে। পরে অবশ্য এই অ্যাকাউন্ট বিচ্ছিন্ন বা আনলিঙ্ক করা যাবে কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা নামও ব্যবহার করা যাবে।
পছন্দের নতুন নাম খালি থাকলে তা যেকোনো সময় পরিবর্তন করা সম্ভব। হোয়াটসঅ্যাপ আরও জানিয়েছে যে জনপ্রিয় বা পরিচিত নাম অন্য কেউ আগে থেকেই দখল করে নিয়েছে বলে যে দাবি উঠেছে তা সঠিক নয়। চলতি বছরের শেষ দিকে এই সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর আগে ব্যবহারকারীদের পছন্দের নাম সুরক্ষিত রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহারকারীদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেই ধাপে ধাপে এই ফিচারটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
এজেড