১০ জুন ২০২৬, ০৯:২০ পিএম
বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর দুটি আলাদা কক্ষ থেকে মা ও দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দিবাগত রাতে নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১টার দিকে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরগুনা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি পৃথক কক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানী (৩৪) এবং তার দুই মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) ও অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, এ নিয়ে শুরু হয় নানা আলোচনা। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা দেয়, দুই মেয়েকে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
তবে শুরু থেকেই এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আসছিলেন নিহতদের স্বজনরা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করেন।
ঘটনার পর ৪ জুন বরগুনা পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার সময়ও স্বজন ও স্থানীয়রা বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেন।
নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেছি। শুরু থেকেই আমরা মনে করে আসছি এটি হত্যাকাণ্ড। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি চাই।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগে মামলা করতে গেলে বিভিন্ন জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত মামলা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, দুই সন্তানসহ মায়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এএইচ