জেলা প্রতিনিধি
০৯ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
বহুল আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার পলাতক দুই আসামি সেনাবাহিনীর সাবেক সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান জাহিদ ও সৈনিক শাহিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারির আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মমিনুল হক এ আদেশ দেন।
কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। জানা গেছে, দুই আসামি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম কিছুদিন আগে কুমিল্লার আদালতে পলাতক এই দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলে রেড এলার্ট জারির আবেদন করেন। সোমবার বিকেলে ওই আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লা কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হয় এই মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেফতার থাকা সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে। এ সময় তার জামিন আবেদন করা হয়নি। নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে তাকে আদালতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে পুনরায় কারাগারে নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় টিউশনি করাতে গিয়ে নিখোঁজ হন ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু। পরদিন সেনানিবাসের পাওয়ার হাউস-সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বাবা ইয়ার হোসেন।
শুরুতে থানা পুলিশ, জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটি তদন্ত করেও কোনো রহস্য বের করতে পারেনি। পরে পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দফতরে হস্তান্তর করে সিআইডি।
প্রায় চার বছর এই মামলার তদন্ত করেছেন পিবিআই সদর দফতরের পুলিশ পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান। সর্বশেষ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে মামলাটির ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পেয়েছেন পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম। মামলায় সাবেক ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।
প্রতিনিধি/এফএ