জেলা প্রতিনিধি
০৮ জুন ২০২৬, ০৬:২২ পিএম
নেত্রকোনার বারহাট্টায় পুলিশ পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের সময় ভুয়া পুলিশকে আটক করেছে এলাকাবাসী। এসময় অপহৃত যুবককে উদ্ধার করা হয়। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার (৮ জুন) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চম্পক দাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা গ্রামের মো. সিজন মিয়া (৩৫) ও মো. সুজাত মিয়া (৩৩)।
এ ঘটনায় করা মামলায় আটক দুজনসহ সদর উপজেলার দুর্গাশ্রম গ্রামের শাহিন মিয়া (৩২) ও বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের লাক মিয়ার ছেলে মো. মামুন মিয়াসহ (৩৫) আরও ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
অপহৃত ব্যবসায়ীর নাম সোহরাব হোসেন (২৮)। তিনি বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর গ্রামের ওয়ারেছ আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার নৈহাটী বাজারে মোবাইল ব্যাংকিং ও মনোহারি ব্যবসা করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার সকালে নিজের দোকানে ব্যাবসায়িক কাজ করছিলেন সোহরাব। এ সময় প্রতিবেশী মামুন মিয়া তাকে মোবাইলফোনে কল করে জানায়, তোদের বাড়িতে ঝগড়া লেগেছে, তাড়াতাড়ি বাড়িতে আয়। খবর পেয়ে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন সোহরাব। কিছুদূর যাওয়ার পর পথে সিজন ও সুজাতসহ আরও কয়েকজন মিলে দুটি মোটরসাইকেল দিয়ে তার পথরোধ করেন। তারা নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় এবং তোমার নামে ওয়ারেন্ট আছে বলে হাতকড়া বের করে পরিয়ে সোহরাবকে তাদের বাইকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী কলমাকান্দা উপজেলার আমবাড়ি এলাকায় একটি জঙ্গলে নিয়ে সোহরাবকে মারধর করে ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ওই সময় অপহরণকারীরা মামুন মিয়ার সঙ্গে মোবাইলফোনে কথা বলে। তারপর তাকে নিয়ে অন্যত্র যাওয়ার জন্য রওনা হয়।
পথে আমবাড়ি বাজারে পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে নেমে চিৎকার দেয় সোহরাব। তখন বাজারের লোকজন ছুটে আসে। বিষয়টি লোকজনকে জানালে সোহরাবকে উদ্ধার করে এবং ওই দুইজনকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে কলমাকান্দা থানার পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রাতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আটক দুই অপহরণকারীকে বারহাট্টা থানায় হস্তান্তর করা হয়। এদিকে সোহরাব বাদী হয়ে থানায় মামলা করে। এতে সিজন সুজাত, মামুন মিয়া, শাহিন মিয়ার নামোল্লেখসহ আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি মোটরসাইকেল ও একজোড়া হাতকড়া জব্দ করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে তারা নিজেদের পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিচ্ছিল। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও পুলিশ লিখা রয়েছে।
বারহাট্টা থানার ওসি চম্পক দাম বলেন, ওই দুইজনকে মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আজ দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
প্রতিনিধি/এসএস